হাসপাতালে ভর্তি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমার অভিনেতা রইছ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অভিনেতা বিজয় চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ রইছ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতা বর্তমানে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (পিসিসিইউ) রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী।

বাবার অসুস্থতার খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোয়া চেয়েছেন বিজয় চৌধুরীর মেয়ে ফিওনা ইসলাম। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তার বাবা বর্তমানে হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন। বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার এক ভাগ্নের দাওয়াতে সিংগাইর গিয়েছিলেন তার বাবা। সেখানে হঠাৎ তার বুকে ব্যথা শুরু হয়। পরে দ্রুত তাঁকে ঢাকায় এনে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে পিসিসিইউতে রেখে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই সিনেমা প্রায় তিন দশক পরও দর্শকের স্মৃতিতে জায়গা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্রটির শেষদিকে রইছ চরিত্রের আত্মত্যাগ দর্শকের মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। সেই চরিত্রে অভিনয় করেই ব্যাপক পরিচিতি পান বিজয় চৌধুরী।

‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ অভিনয়ের সময় বিজয় চৌধুরীর বয়স ছিল ২২ বছর। ১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার নাম রাখা হয়েছিল ‘বিজয়’। বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সী বিজয়কে দর্শকের একটি বড় অংশ এখনো ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ নামেই মনে রেখেছেন।

রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিজয় চৌধুরীর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯৩ সালে। পরিচালক রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করলেও রইছ চরিত্রের মতো অন্য কোনো চরিত্র তাকে একই মাত্রায় পরিচিতি এনে দিতে পারেনি। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর পর আর কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি এই অভিনেতা।

১৯৯৬ সালে সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় চৌধুরী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। অভিনেতার বাবা মোহাম্মদ মনির চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং মা মিনা চৌধুরী গৃহিণী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বিজয় একজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত