দেশজুড়ে তীব্র বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ বিভাগে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী কালবৈশাখী।
শুক্রবার (১ মে) দুপুর থেকে আগামীকাল শনিবার (২ মে) সকালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ঝড় আঘাত হানবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু গবেষকরা।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তার সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে জেলাভিত্তিক ঝড়ের সম্ভাব্য সময়সূচি তুলে ধরেছেন:
রংপুর বিভাগ: শুক্রবার রাত ১০টার পর থেকে শনিবার ভোর ৫টার মধ্যে এই বিভাগের সব জেলায় বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহী বিভাগ: শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে অধিকাংশ জেলায় হালকা বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ: শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১২টার মধ্যে এই দুই বিভাগের সব জেলায় কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা রয়েছে। সিলেটে গভীর রাতে আবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
ঢাকা বিভাগ: ঢাকার উত্তর ও পূর্ব দিকের জেলাগুলোতে (গাজীপুর, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ) শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার ভোর ৫টার মধ্যে ঝড় হতে পারে। তবে দক্ষিণ দিকের জেলাগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
চট্টগ্রাম বিভাগ: শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১২টার মধ্যে উত্তর চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগ: এই দুই বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বর্তমানে সবচেয়ে কম।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তার অধিক বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। ঝড়ের সময় তীব্র বজ্রপাত এবং দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশব্যাপী এই কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের প্রবণতা আগামী ৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ৫ মে থেকে বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঝড় ও বজ্রপাতের সময় সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া খোলা জায়গায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সকালের মধ্যে যেসব এলাকায় ঝড়ের শঙ্কা