নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসারের ৬ লক্ষণ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

ঘাড়ে সামান্য ফোলা ভাব কিংবা গলার স্বরে হালকা পরিবর্তন আমাদের অনেকেই একে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে চলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। থাইরয়েড গ্রন্থিতে বাসা বাঁধা ক্যানসার বা 'থাইরয়েড ক্যানসার' প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা না পড়লে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

শরীরের হরমোন ও বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে থাইরয়েড গ্রন্থি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা একে 'নীরব ঘাতক' বলছেন কারণ এর লক্ষণগুলো খুব সূক্ষ্ম এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো ব্যথাবোধ থাকে না।

সতর্ক হতে হবে যে ৬ লক্ষণে

গবেষকদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়:

  • ঘাড়ে ফোলা বা গাঁট: ঘাড়ের সামনের দিকে কোনো চাকা বা দলা অনুভূত হওয়া।
  • কলার টাইট লাগা: জামার কলার হঠাৎ অস্বাভাবিক টাইট মনে হওয়া।
  • স্বরে পরিবর্তন: গলার স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আসা।
  • গিলতে সমস্যা: খাবার বা পানি গেলার সময় গলায় বাধা অনুভূত হওয়া।
  • লিম্ফ নোড ফোলা: ঘাড়ের পাশের গ্রন্থিগুলো ফুলে ওঠা।
  • ব্যথা: গলা বা ঘাড়ে মাঝেমধ্যে হালকা ব্যথা হওয়া।

থাইরয়েড ক্যানসারের প্রকারভেদ

থাইরয়েড ক্যানসার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসার ধরন নির্ধারিত হয়:

  • প্যাপিলারি: এটি সবচেয়ে সাধারণ এবং চিকিৎসায় দ্রুত সেরে ওঠে।
  • ফলিকুলার: এটি হাড় বা ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা রাখে।
  • হারথল সেল: এটি তুলনামূলক বেশি আগ্রাসী।
  • এনাপ্লাস্টিক: এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং খুব দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
  • মেডুলারি: এটি মূলত জেনেটিক কারণে হয় এবং হরমোন উৎপাদন কেন্দ্র থেকে শুরু হয়।

ঝুঁকির কারণ ও প্রতিরোধ

যাদের পরিবারে এই ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে কিংবা যারা আগে কখনো মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নিয়েছেন, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারে মেডুলারি ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে জেনেটিক কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক অস্ত্রোপচার (থাইরয়েডেকটমি) করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: থাইরয়েড ক্যানসার সাধারণত ধীরে বৃদ্ধি পায়। তাই প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করতে পারলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

NB
আরও পড়ুন