ভাতের পাতে এক টুকরো লেবু কিংবা সকালে এক গ্লাস লেবু-পানি স্বাদের পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লেবুর জুড়ি মেলা ভার। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত লেবুর রস পানে সাধারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি প্রতিরোধের শক্তি পায় শরীর।
ক্যান্সার ও সংক্রমণ প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা
লেবুতে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের অনেক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকরী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ভাইরাসজনিত যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে লেবুর রস যুদ্ধ করে।
কিডনি ও লিভারের সুরক্ষায়
কিডনিতে পাথর হওয়া বর্তমানে একটি সাধারণ সমস্যা। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ পাথর গঠনে বাধা দেয়। পাশাপাশি এটি কোলন, পিত্তথলি ও লিভার থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিয়ে শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার (ডিটক্স) রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজম শক্তি বৃদ্ধি
যারা ওজন বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য লেবুর রস এক আদর্শ সমাধান। এতে থাকা ফাইবার বা আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করে ওজন দ্রুত হ্রাস করে। এছাড়া এটি পরিপাক নালী সচল রেখে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমে সহায়তা করে।
উজ্জ্বল ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্য
লেবুর ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন তৈরি করে কোষের ক্ষয় রোধ করে। এর ফলে মুখের অবাঞ্ছিত দাগ দূর হয় এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। শুধু ত্বকই নয়, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা ও চোখের বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়েও লেবুর রসের অবদান অনস্বীকার্য।
মানসিক প্রশান্তি ও তাৎক্ষণিক শক্তি
লেবুর রস পরিপাক নালীতে প্রবেশ করে শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। এটি মানসিক চাপ কমাতে এবং মেজাজ ফুরফুরা রাখতেও দারুণ কাজ করে। এছাড়া মূত্রনালীর সংক্রমণে প্রচুর পরিমাণে লেবুর রস পান করলে দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব।
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস সুস্থ জীবন যাপনের পথে এক বড় পদক্ষেপ হতে পারে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
চোখ ফোলা মানেই ঘুমের অভাব নয়, হতে পারে থাইরয়েডের প্রথম সংকেত
সকালে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস খেলে শরীরে যা ঘটবে
