রোজা রেখে ইনহেলার বা নেবুলাইজার ব্যবহারের বিধান

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ এএম

পবিত্র রমজান মাসে ইবাদত ও সিয়াম সাধনার পাশাপাশি অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য শরিয়তের বিধানগুলো জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যারা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা সমস্যায় ভুগছেন, রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার বা নেবুলাইজার ব্যবহার নিয়ে তাদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে।

ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি ও ফতোয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার বা নেবুলাইজার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যায়।

কেন রোজা ভেঙে যায়?

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা রাখা অবস্থায় খাদ্যনালীতে বাইরে থেকে নিরেট বাতাস ছাড়া অন্য কোনো বস্তু প্রবেশ করলেই রোজা ভেঙে যায়। নেবুলাইজার মূলত এমন একটি যন্ত্র যার মাধ্যমে তরল ওষুধ বাষ্প আকারে রোগীর ফুসফুসে প্রবেশ করানো হয়। যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় ওষুধের সূক্ষ্ম কণা বা তরল পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে সরাসরি শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে, তাই এতে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে ইনহেলার ব্যবহারের সময় যে স্প্রে করা হয়, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেহবিশিষ্ট তরল ওষুধ। এটি সরাসরি মুখগহ্বর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করায় রোজা ভেঙে যায়।

বিকল্প ও করণীয়

যাদের ইনহেলার বা নেবুলাইজার ব্যবহারের ফলে রোজা ভেঙে যায়, তাদের জন্য ওই রোজার ‘কাজা’ আদায় করা ওয়াজিব। তবে কোনো রোগী যদি এতটাই অসুস্থ হন যে তার পক্ষে ভবিষ্যতে রোজা রাখা বা কাজা আদায় করা সম্ভব নয়, তবে তাকে প্রতিটি রোজার জন্য একটি করে 'ফিদইয়া' আদায় করতে হবে।

ফিদইয়া আদায়ের নিয়ম

প্রতিটি রোজার ফিদইয়া হলো সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ খাদ্য বা অর্থ (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা তার বাজারমূল্য)। তবে মনে রাখতে হবে, ৬০ দিনের ফিদইয়া একত্রে এক ব্যক্তিকে এক দিনে দিলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় হবে না; এটি প্রতিদিনের হিসেবে বণ্টন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

শ্বাসকষ্টের রোগীরা সাহরির শেষ সময়ে বা ইফতারের পর দীর্ঘমেয়াদী কাজ করে এমন ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে দিনের বেলা ইনহেলারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারেন। তবে জীবন রক্ষার্থে বা তীব্র সংকটে দিনের বেলা ইনহেলার ব্যবহার করলে কোনো গুনাহ হবে না, কেবল পরবর্তীতে ওই রোজার কাজা আদায় করে নিতে হবে।

NB
আরও পড়ুন