শিশুদের আগেভাগে ডিম খাওয়ালে অ্যালার্জি ঝুঁকি কমতে পারে: গবেষণা

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

শিশুদের খাদ্য অ্যালার্জি নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের মধ্যেই আশাব্যঞ্জক তথ্য সামনে এনেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি নতুন গবেষণা। গবেষকদের দাবি, জীবনের শুরুতেই শিশুদের খাদ্যতালিকায় ডিম অন্তর্ভুক্ত করলে ডিমে অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড এবং মুরডক চিলড্রেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। তাদের মতে, অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার দিতে দেরি করার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিতভাবে শুরুর দিকেই এসব খাবারের সঙ্গে শিশুকে পরিচিত করানো বেশি উপকারী হতে পারে।

‘জামা পেডিয়াট্রিকস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে প্রায় ৭ হাজার ২০০ অস্ট্রেলীয় শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে ২০১৬ সালে জাতীয় শিশু খাদ্য নির্দেশিকা পরিবর্তনের আগে ও পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্য তুলনা করে দেখা হয়।

নতুন নির্দেশিকায় শিশুদের জীবনের প্রথম এক বছরের মধ্যেই ডিম খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই পরিবর্তনের পর ডিম অ্যালার্জির হার প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে।

গবেষকদের ভাষ্য, একসময় মনে করা হতো অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার দেরিতে খাওয়ালে ঝুঁকি কমে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জীবনের প্রথম দিকে এসব খাবারের সংস্পর্শে এলে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সেগুলোকে নিরাপদ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে।

ফলে অল্প পরিমাণে নিয়মিত ডিম খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে সহনশীলতা তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঝুঁকি কমতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একজিমায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রেও ডিম অ্যালার্জির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজিমা আক্রান্ত শিশুদের ত্বকের মাধ্যমে অ্যালার্জেন শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই মুখের মাধ্যমে আগেভাগে খাবার পরিচয় করিয়ে দিলে শরীর ওই খাবারের প্রতি সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে।

বর্তমান অস্ট্রেলীয় স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় শিশুদের প্রায় ছয় মাস বয়স থেকে ভালোভাবে রান্না করা ডিমসহ সাধারণ অ্যালার্জি-সৃষ্টিকারী বিভিন্ন খাবার ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, এটি জোরপূর্বক নয়; বরং স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এক বছরের আগেই এসব খাবারের সঙ্গে শিশুকে পরিচিত করানোই মূল উদ্দেশ্য।

গবেষকদের মতে, আগেভাগে ডিম খাওয়ানো অ্যালার্জি পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে না পারলেও ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও সব শিশুর ক্ষেত্রে ফলাফল একই নাও হতে পারে, তবু সঠিক সময়ে খাদ্য পরিচয় করানো শিশুদের খাদ্য অ্যালার্জি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সূত্র- এনডিটিভি

AM
আরও পড়ুন