ভুল অভ্যাসে নষ্ট হচ্ছে কিডনি, রক্ষার উপায় কী

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

মানবদেহের অন্যতম প্রধান একটি অঙ্গ হলো কিডনি। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল বের করে রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু অসচেতনতার কারণে অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির ক্ষতি করে ফেলেন। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।

কিডনি ভালো রাখতে যেসব খাবার খাওয়া জরুরি

পর্যাপ্ত পানি: কিডনি সচল রাখার প্রধান চাবিকাঠি হলো পানি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন শরীর ও কাজের ধরন অনুযায়ী ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এটি শরীর থেকে সোডিয়াম ও ইউরিয়া বের করে দিতে সাহায্য করে।

লাল ক্যাপসিকাম: এতে পটাশিয়ামের পরিমাণ খুব কম থাকে, যা কিডনির জন্য ভালো। এছাড়া এতে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি, বি৬ এবং এ রয়েছে।

ফুলকপি ও বাঁধাকপি: এগুলো ভিটামিন সি, কে এবং বি-এর চমৎকার উৎস। এতে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কিডনির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং এতে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে।

রসুন ও পেঁয়াজ: খাবারে লবণের বিকল্প হিসেবে রসুন ও পেঁয়াজ ব্যবহার করা চমৎকার। রসুনে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা কিডনি ভালো রাখে।

বেরি জাতীয় ফল: ব্লুবেরি, ক্র্যানবেরি বা স্ট্রবেরি কিডনির জন্য অত্যন্ত উপকারী। ক্র্যানবেরি জুস মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) প্রতিরোধ করতে বিশেষভাবে কার্যকরী, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে রক্ষা করে।

ডিমের সাদা অংশ: ডিমের কুসুমে ফসফরাস বেশি থাকে, যা কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে ডিমের সাদা অংশ উচ্চ মানের এবং কিডনি-বান্ধব প্রোটিনের দারুণ উৎস।

অলিভ অয়েল: রান্নায় অতিরিক্ত তেলের বদলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা ভালো। এর সুস্থ ফ্যাট এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীর সতেজ রাখে।

কিডনির সুরক্ষায় জীবনযাত্রায় যে নিয়মগুলো মানতে হবে

লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমান: অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। দিনে ৫ গ্রামের (এক চা চামচ) বেশি লবণ খাওয়া একদমই উচিত নয়। কাঁচা লবণ খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

বিনা প্রেসক্রিপশনে পেইনকিলার (ব্যথানাশক) না খাওয়া: এটি কিডনি নষ্ট হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা যেকোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া কিডনির ফিল্টার করার ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিতে পারে।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কিডনি বিকল হওয়ার মূল দুটি কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং হাই ব্লাড প্রেসার। তাই এই দুটি রোগ থাকলে তা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

অতিরিক্ত প্রোটিন ও সাপ্লিমেন্ট বর্জন: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বডি বিল্ডিং সাপ্লিমেন্ট বা অতিরিক্ত মাত্রায় প্রোটিন পাউডার খাওয়া কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন: ধূমপানের ফলে শরীরের রক্তসঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব কিডনিতেও পড়ে।

উল্লেখ্য, যাদের ইতিমধ্যেই কিডনির সমস্যা বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও সোডিয়ামযুক্ত খাবার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কঠোরভাবে পরিমাপ করে খেতে হয়। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ওপরের নিয়মগুলো মেনে চললে কিডনি রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

YA
আরও পড়ুন