কলকাতার রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিন-এর নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অস্বস্তিকর ঘটনার পর অবশেষে মুখ খুললেন কবি জয় গোস্বামী। দর্শকদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে মঞ্চে না উঠে ফিরে যাওয়ার ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তিনি বলেন, আমি ওই মঞ্চে থাকার অধিকারী নই। যারা আমাকে ধিক্কার দিয়েছেন, তারা তাদের মতো করে ঠিকই করেছেন। কিন্তু তসলিমা আবার ডাকলে আমি আবারও যাব। আবার অপমানিত হলেও হব।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিনকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিশিষ্টজনেরা। বক্তব্য রাখতে উঠে তসলিমা দর্শকাসনে বসে থাকা জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, তার অগ্রজ ও শ্রদ্ধেয় কবিকে মঞ্চে দেখতে চান।
জয় গোস্বামী আসন ছেড়ে মঞ্চের দিকে এগোতেই দর্শকদের একাংশের মধ্যে হইচই শুরু হয়। পরিস্থিতি দেখে তিনি আর মঞ্চে না উঠে নিজের আসনে ফিরে যান। কিছু সময়ের জন্য অনুষ্ঠানে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে তসলিমাও জানান, এই ঘটনা তার খারাপ লেগেছে এবং এমন প্রতিক্রিয়া তিনি আশা করেননি।
রোববার (২ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জয় গোস্বামী জানান, তসলিমা কলকাতায় ফিরছেন শুনেই তিনি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার কথায়, “তসলিমা আমাকে দেখে মঞ্চে ডাকলেন। আমি উঠে এগোতেই হইচই শুরু হয়। প্রথমে বুঝতে পারিনি সেটি ধিক্কার। পরে তসলিমার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি, তিনি খুবই বিব্রত হয়ে পড়েছেন। তাকে আরও অস্বস্তিতে ফেলতে চাইনি বলেই আমি ফিরে আসি।”
কেন দর্শকদের একাংশ তার উপস্থিতির বিরোধিতা করলেন, সেই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন কবি। তার মতে, গত ১৫ বছরে তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফিরে আসার দাবিতে তিনি প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য রাখেননি। সেই কারণেই অনেকের মনে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক বলে তিনি মনে করেন।
জয় গোস্বামী বলেন, “আমার মনে হয়েছে, ওই মঞ্চে থাকার অধিকার আমার ছিল না। যদি মঞ্চে উঠতে পারতাম, প্রথমেই বলতাম গত ১৫ বছরে আমি তসলিমার হয়ে কিছু বলিনি। তারপর ওকে উৎসর্গ করে একটি কবিতা পড়তাম।”
তবে ঘটনার পরও তসলিমার প্রতি তার শ্রদ্ধায় কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন কবি। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে তসলিমা যদি আবার কলকাতায় আসেন এবং আবার আমাকে মঞ্চে ডাকেন, আমি অবশ্যই যাব। আবার অপমানিত হলেও যাব। আমি আজীবন তসলিমাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাব।”
রবীন্দ্র সদনের এই ঘটনাকে ঘিরে সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে ইতোমধ্যেই নানা প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। জয় গোস্বামীর বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেও, তিনি নিজের প্রতিক্রিয়ায় কোনো পাল্টা আক্রমণের পথ না নিয়ে আত্মসমালোচনার সুরই তুলে ধরেছেন।
গণহত্যার মধ্যেও গাজায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের হাসি