'মানব পাচার রুখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ'

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

মানব পাচারের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ শুধু সাধারণ মানুষের ক্ষতিই করে না, বরং হুন্ডি ও অর্থ পাচারের মতো অপরাধের মাধ্যমে রাষ্ট্রকেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই অপরাধের চক্র ভাঙতে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের কলম অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. শাহ আলম।

অস্ট্রেলিয়ান সরকার ও ব্র্যাকের বাস্তবায়নে 'ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং' প্রকল্পের আওতায় ক্র্যাবের সাথে যৌথভাবে এই কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার সময় বাংলাদেশি শ্রমিকরা দালালের খপ্পরে পড়ে কীভাবে প্রতারিত হচ্ছেন এবং জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, তা গণমাধ্যমে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।’

আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান তার বক্তব্যে অভিবাসন ও মানব পাচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘একজন গণমাধ্যমকর্মীকে সংবাদের গভীরে গিয়ে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক উন্মোচন করতে হবে এবং এক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে হবে।’

ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সমন্বয়ক হারুন অর রশীদ অপরাধ দমনে সাংবাদিক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কর্মশালায় বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত ক্র্যাবের ৬৫ জন সদস্য সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন এবং পাচার প্রতিরোধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সাল থেকে কাজ করা বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক তাদের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও মানব পাচার রোধে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

NB
আরও পড়ুন