সার্ককে জাগ্রত করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২১ এএম

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজনীয়তার ওপর আবারও জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় একাধিক আঞ্চলিক নেতার উপস্থিতি প্রমাণ করে সার্কের চেতনা এখনও জাগ্রত রয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসা বিভিন্ন দেশের আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

জানাজায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেল, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নমন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস সচিব জানান, জানাজার দিন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার বিকেলে মালদ্বীপের মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ এবং শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী বিজিতা হেরাথ সাক্ষাৎ করেন ড. ইউনূসের সঙ্গে।

সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা আঞ্চলিক নেতাদের কাছে একই বার্তা তুলে ধরেন, আর তা হলো- সার্ককে যে কোনো উপায়ে পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আঞ্চলিক নেতাদের একত্রিত হওয়া সার্কের চেতনার অস্তিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘সার্কের চেতনা আজও জাগ্রত ও বহাল রয়েছে এবং আমাদের অবশ্যই এ চেতনাকে সংরক্ষণ করতে হবে। আমি সার্ক নেতাদের মধ্যে একটি মিলনমেলা আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, এমনকি সেটা পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও।’

দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য একটি অর্থবহ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্ক পুনরুজ্জীবিত হবে এমন আশাও ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকগুলোতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ নির্বাচনের পর তিনি তার পূর্বের পেশাগত ভূমিকায় ফিরে যাবেন বলে পাকিস্তানের সংসদীয় স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিককে জানান ড. ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ব্যবস্থা চালু করার পর বিদেশে বসবাসকারী এবং কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। বৈঠকে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা বাংলাদেশের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ডাকযোগে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বলেন, ‘আমরা আপনাদের এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখব।’

বৈঠকের বিষয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরও জানান, সফররত বিদেশি বিশিষ্টজনেরা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার ব্যাপকতা ও মর্যাদায় গভীরভাবে অভিভূত হয়েছেন। আয়োজনের প্রশংসা করে তারা জানান, এত বড় ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জানাজা তারা আগে কখনও দেখেননি।

HN
আরও পড়ুন