বর্ষায় ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে দেশব্যাপী ব্যাপক ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

মশাবাহিত এই রোগ মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সাতটি সিটি করপোরেশন আগাম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক র‍্যালি, বাউল গানের মাধ্যমে প্রচারণা, সপ্তাহে একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কমিউনিটি মিটিং এবং উঠান বৈঠকের মতো জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

এবারের কার্যক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জনসচেতনতা বাড়াতে সুর ও সংগীতভিত্তিক ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছে। ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পাঁচদিনব্যাপী বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ; উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব"।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ স্থাপন, চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান এবং রিএজেন্ট, টেস্টিং কিটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারের কাছে প্রায় ২ লাখ ব্যাগ খাবার স্যালাইন মজুত রয়েছে এবং এই মজুত আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও ফিল্ড হাসপাতাল করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের ডেঙ্গু রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট ফি না নেওয়ার আহ্বান এবং রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাগুলোতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দেশব্যাপী সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোনো বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত জানান, জনগণকে সচেতন করতে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে ধর্মীয় নেতাদেরও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমামদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এই আগাম প্রস্তুতি, সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সূত্র: বাসস



SN
আরও পড়ুন