এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর এবার ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে সংস্থাটি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ১০টি লিজ বিমান যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে দাঁড়াবে ২৯টিতে, যা বর্তমান বহরের তুলনায় প্রায় ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

সূত্র জানায়, লিজে উড়োজাহাজ নেওয়ার পরিকল্পনা বোয়িংয়ের সঙ্গে করা ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির বাইরে একটি পৃথক উদ্যোগ। ওই চুক্তির আওতায় উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার কথা। পাশাপাশি এয়ারবাস থেকেও নতুন উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই ২০৩০ সালের আগে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ পাওয়া কঠিন। এ কারণে মধ্যবর্তী সময়ের চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে লিজের বিকল্প বেছে নিয়েছে বিমান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিচালনাগত প্রয়োজন এবং নতুন রুট চালুর ওপর নির্ভর করে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে উন্নীত হতে পারে।

তিনি জানান, চলতি বছরের মধ্যেই লিজ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যেও সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

লিজ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরো প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এদিকে বিমান ইতোমধ্যে ছয় বছরের জন্য ড্রাই লিজে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার সংগ্রহের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বিমান ১৪টি আধুনিক বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। এর আওতায় বহরে যুক্ত হবে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

এরই মধ্যে বিমানকে ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে এয়ারবাস। প্রস্তাবিত উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ৬টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ৪টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি এয়ারক্রাফট। এ৩৫০-৯০০ মডেলে ৩৮টি বিজনেস ক্লাস, ২৮টি প্রিমিয়াম ইকোনমি এবং ২১৪টি ইকোনমি ক্লাস মিলিয়ে মোট ২৮০টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে এ৩২১নিও মডেলে ২৮টি বিজনেস ক্লাসসহ মোট ২১৫টি আসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, এয়ারবাসের প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক সুবিধা ও পরিচালনাগত প্রয়োজন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্স কমিটি পর্যালোচনা করছে। এখনও কতটি বা কোন মডেলের উড়োজাহাজ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে গত ১৫ জুলাই এয়ারবাসের প্রস্তাব পর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও জার্মানির কূটনীতিকরা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও এর মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রয়েছে।

AHA
আরও পড়ুন