ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন শিক্ষক হলেন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদ জানান, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে তিন শিক্ষকই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, প্রগতিশীল মতাদর্শের শিক্ষকদের দমন করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া বা হামলার নির্দেশকে সমর্থন করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। টেলিভিশন আলোচনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দেওয়া হলে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।

অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে ‘চরম অবিচার, মিথ্যাচার ও স্বেচ্ছাচারিতা’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, নিজের পক্ষে সাক্ষী উপস্থাপন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের জেরা করার সুযোগ তিনি পাননি।

তিনি বলেন, শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ চেয়ে বারবার চিঠি দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ডাকেনি। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তিনি।

অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় তিনি সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। পুলিশ শিক্ষার্থীদের আটক করলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের ভিত্তিতে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে গঠিত ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী কার্যক্রমেই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হবে।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন