যেসব সরকারি চাকরিতে বাড়ছে না ভাইভার নম্বর

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ এএম

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদন মিললেই যেকোনো দিন প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ভাইভার নম্বর বাড়ানোর এই উদ্যোগ নিয়ে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও আন্দোলন চলছে। এর মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরুর পর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা বৈষম্য তৈরির চিন্তা নেই। দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এর আগে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়।

খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নম্বর আইন)-এর ধারা ৫৯-এর উপধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪০(২) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হলো।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিধিমালা ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১তম-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে এই বিধিমালা শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব বা অন্য কোনো বাহিনী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের আওতাভুক্ত কোনো পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

খসড়া বিধিমালায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

বর্তমানে এসব পদে ভাইভায় ১০ নম্বর থাকলেও নতুন প্রস্তাবে গ্রেডভেদে তা ২৫, ৪০ ও ৫০ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে।

১১-১২তম গ্রেড

বিধিমালা অনুযায়ী, ১১-১২তম গ্রেডে মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৫০ নম্বর রাখা হবে। বর্তমানে যেখানে ভাইভায় ১০ নম্বর রয়েছে, সেখানে এটি ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

একই গ্রেডের লিখিত পরীক্ষায় ৯০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রস্তাবিত খসড়ায় তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।

১৩-১৬তম গ্রেড

১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের পদে বর্তমানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যথাক্রমে ৯০ ও ১০ নম্বর রয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ এবং ভাইভায় ৪০ নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

১৭-২০তম গ্রেড

অন্যদিকে, ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় ৪০ এবং ভাইভায় ১০ নম্বর রয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় লিখিত ও মৌখিক দুই পরীক্ষাতেই ২৫ নম্বর করে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে চাকরির ক্ষেত্রে নম্বর পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি সচিব কমিটির সভায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হবে না। এ জন্য প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

খসড়া বিধিমালায় চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সময় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের কোনো কার্যক্রম বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী চলমান থাকলে তা আগের বিধিমালা অনুসারেই নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে শুরু হওয়া নিয়োগ কার্যক্রমে নতুন নম্বর কাঠামো প্রযোজ্য হবে না।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবে।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত