জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘বিরাট পদোন্নতি’ দেখছেন ড. ইউনূস

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একসময় ছোট ও সংকীর্ণ কোণার কক্ষে সীমাবদ্ধ থাকা আয়োজন এবার বড় পরিসরে মূলধারায় জায়গা পাওয়ায় এটিকে নিজেদের ‘বিরাট পদোন্নতি’ হিসেবে দেখছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘে আয়োজিত ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টের ১১তম আসরে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অনুভূতির কথা জানান।

সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী দিনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ও ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধু জোসে রামোস-হোর্তা। ব্রাজিলের মন্ত্রী ওয়েলিংটন দিয়াসসহ বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ড. ইউনূস রসিকতা করে বলেন, অতীতে এমন আয়োজনের জন্য জাতিসংঘের ছোট একটি কোণার কক্ষে স্থান মিলত এবং সেখানে সবাইকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হতো না। তবে এবার সঠিক জায়গায় বন্ধুদের উপস্থিতি পাওয়ায় আয়োজনের পরিসর ও কক্ষ দুটিই বড় হয়েছে। উপস্থিতির দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে তিনি বলেন, এটি তাদের জন্য বড় এক পদোন্নতি। যদিও ভবিষ্যতে তারা আবার কোণার ঘরে ফিরে যান কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে ইউনূস বলেন, অধিবেশন শুরুর মুহূর্তে তাকে পুরো সেশনের জন্য পাওয়া তাদের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিভ্রান্তিকর ভাষার বিপরীতে মানুষ যাতে শান্তি ও ন্যায্যতার স্পষ্ট বার্তা পায়, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

বক্তব্যে ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তি এবং বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসার বিস্তার নিয়েও কথা বলেন। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ কীভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পৌঁছে দিয়েছে এবং প্রায় শতভাগ সফল পরিশোধের রেকর্ড গড়েছে, তা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার কাঠামোর অধীনে গড়ে ওঠা ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, টেলিমেডিসিন নেটওয়ার্ক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্ষু হাসপাতালের উদাহরণও দেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, লাভের অর্থ পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান এখন স্বাবলম্বী।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে অধ্যাপক ইউনূস ঘোষণা দেন, চাকরিপ্রত্যাশী তৈরির প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে আগামী ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করবে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’। শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠান তরুণদের সনদের চেয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেবে।

বিশ্বের প্রান্তিক মানুষের জীবন বদলের এই সম্মিলিত উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের সমর্থন কামনা করেন ড. ইউনূস।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত