আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যতম কনিষ্ঠ ও আলোচিত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দলটি আসন সমঝোতার মাধ্যমে জোট থেকে ৩০টি আসন পেলেও শেষ পর্যন্ত ৩২টি আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন বড় কৌতূহল—এনসিপি থেকে কারা যাচ্ছেন সংসদে? দলটির নীতিনির্ধারকদের জরিপ ও সমীকরণ অনুযায়ী, অন্তত ১০টি আসনে তাদের জয় পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে লড়ছেন এনসিপির শীর্ষ তিন নেতা: ঢাকা-১১ আসনে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা-১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব। এই আসনগুলোতে বিএনপির মির্জা আব্বাস, ড. এম এ কাইয়ুম ও এস এম জাহাঙ্গীরের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও এনসিপি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
ঢাকার বাইরে এনসিপির বড় বাজি কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ ও পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম। এছাড়া রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, নোয়াখালী-৬ আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মুজাহিদকে ঘিরে জয়ের স্বপ্ন দেখছে দলটি। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
১০-দলীয় জোটের শরিক হলেও কয়েকটি আসনে এনসিপিকে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। নরসিংদী-২ আসনে জোটের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বিপাকে পড়েছেন এনসিপি প্রার্থী সারোয়ার তুষার। একই চিত্র দেখা গেছে সিরাজগঞ্জ-৬ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও। অন্যদিকে, এনসিপির দুই প্রার্থী শরীয়তপুর-১ ও শেরপুর-১ আসনে কারিগরি কারণে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে না পারলেও তারা জোটের স্বার্থে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিন নেতার মাজার ও শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করছে এনসিপি। কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রাশেদ মাহমুদের মতে, ‘গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের সংসদে যাওয়া সময়ের দাবি। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তকে আরও টেকসই ও প্রতিনিধিত্বমূলক করবে।’
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু, কোন দল কোথায় করবেন
