জামায়াত আমিরের জন্য বরাদ্দ হলো ঐতিহাসিক 'লাল বাড়ি'

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঐতিহাসিক বাসভবন ‘লাল বাড়ি’-র সংস্কার কাজ জোরেশোরে চলছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জান গেছে, ঢাকার মিন্টো রোডের ২৯ নম্বরে অবস্থিত এই দোতলা লাল ভবন দীর্ঘদিন পর বিরোধীদলীয় নেতার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

বাসভবনটি দীর্ঘ সময় অপ্রয়োজনীয় থাকার কারণে এখন বেশিরভাগ অংশে জরাজীর্ণ। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রায় নব্বই ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে; রাস্তা ও রঙের ফিনিশিং চলছে। বাসভবনের আসবাবপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হবে।

অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী বলেন, '২৫ বছর কেউ বাসভবনে থাকেননি। এবার যদি কেউ উঠেন, সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।'

‘লাল বাড়ি’ ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত হয়। এটি শুধু দোতলা লাল ভবন নয়; বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এখানে উঠেছিলেন। ১৯৯৬-২০০১ সালের মধ্যে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিয়মিত অফিস করেছিলেন। তখন এই বাড়ি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম থাকত, মানুষের যাতায়াতে প্রাণবন্ত থাকত চারপাশ।

বাড়িটি রাজনৈতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ: ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বাসভবন। বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাসহ জোটের উচ্চপর্যায়ের নেতারা এখানে অসংখ্য বৈঠক করেছেন।

জানা গেছে, এবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এই বাসভবনে উঠবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দলীয়ভাবে বা আমিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা বলেন, 'আমির বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। যেহেতু বাড়িটি বরাদ্দ, তাই তিনি সেখানে উঠতে পারেন।'

সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'সংসদ সচিবালয় বা সরকার নিয়ম অনুসারে বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বাসভবন বরাদ্দ দিয়েছে। তবে তিনি উঠবেন কিনা বা কখন উঠবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। অধিবেশন শুরু হলে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে বিষয়টি আলোচনা করা হবে।'

বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে বাসভবনের পরিচর্যা ছাড়া থাকার কারণে এখন এক নিভৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। আশপাশে রয়েছে মন্ত্রিপাড়াখ্যাত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত এই বাসভবন স্বাধীনতার পর একসময় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারণ করা হয়ে আসছে।

AS/AHA
আরও পড়ুন