কারামুক্ত আইভী, লড়বেন আগামী সিটি নির্বাচনে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ এএম

দীর্ঘ প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। 

বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন। 

কারামুক্তির পর তার আইনজীবী জানিয়েছেন, আইভী আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন।

১২ মামলায় জামিন বহাল, আইনি বাধা দূর

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার আইভীর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যায় জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই শেষে রাত ১০টা ৮ মিনিটে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। আইভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১২টি মামলা রয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না। মুক্তি পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি কারাগার ত্যাগ করেন।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাত উল ফরহাদ জানান:

"হাইকোর্টের ক্রিমিনাল মিস নং-১৩৪১২/২৬ এবং নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্মারক নং-৭৭৩ অনুযায়ী জামিনের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের স্মারক নং-১৪৫৭ অনুযায়ী জেলার ৯টি মামলায় তার জামিন নিশ্চিত করা হয়। অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।"

কারাগার থেকে সরাসরি গাড়িতে, সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেন

কারা সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসস্থান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আইভী। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। 

বুধবার রাতে মুক্তির সময় কারাফটকে তার আইনজীবী ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি গাড়িতে উঠে যান এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

আগামী নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা

আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তিনি এক বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন।"

তিনি আরও জানান, হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে তা স্থগিতের আবেদন করেছিল। কিন্তু আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখায় অবশেষে মুক্তির পথ সুগম হয়। আইভী আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় আইভীর বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ পৃথক ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গত ১০ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। এর আগে ৩০ এপ্রিল অন্য দুটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলে ১৭ মে চেম্বার আদালত তা বহাল রাখেন।

বারবার মামলা ও গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইভী হাইকোর্টে রিটও করেছিলেন। গত ২৬ এপ্রিল প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে কেন তাকে বারবার মামলায় জড়ানো হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।

আইভীর রাজনৈতিক প্রোফাইল


২০০৩ - ২০১১: নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান/মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন।

২০১১ - ২০২৪: নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র।

দলীয় পদ: নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

HN
আরও পড়ুন