প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষিবিদদের নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর থ্রিডি হলে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)এর উদ্যোগে “বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ” শিরোনামে আয়জিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। সেমিনারে বক্তারা বলেন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। আর সে কারণেই দেশের কৃষি খাতের আমূল পরিবর্তনে বিএনপি সরকারের সুদূরপ্রসারী ও নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত সেই টেকসই উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এই জনকল্যাণমূলক বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ ও কৃষি বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ঘোষিত এই বাজেটে কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, সার-বীজ-কীটনাশকে ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষিবিদদের নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান। প্রধান আলোচক ছিলেন দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুর রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষিবিদ আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লব।
মূল প্রবন্ধে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কৃষক কার্ড চালু, ক্ষুদ্র কৃষিঋণের সুদ মওকুফ, ডাল, তেলবীজ ও ভুট্টা চাষে স্বল্পসুদে ঋণ, সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপন, বরেন্দ্র অঞ্চলে আম সংরক্ষণের হিমাগার নির্মাণ, উত্তরবঙ্গকে আধুনিক কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ বরাদ্দ এবং কৃষি উপকরণ আমদানিতে ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়।
তবে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং বন ও পরিবেশ খাতে মোট ৩৩ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতের অংশ ধারাবাহিকভাবে কমছে। নতুন অর্থবছরে তা প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
সেমিনারে কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য চারটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ, পচনশীল কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে আধুনিক কোল্ড চেইন ও হিমাগার নির্মাণ, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ নিশ্চিত করা এবং স্মার্ট কৃষি, বাজার তথ্য ও আবহাওয়া সেবাসহ ডিজিটাল কৃষির জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ।
এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রাজস্ব ঘাটতির কারণে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছাতে দুর্বল তদারকি, আন্তর্জাতিক বাজারে সার, বীজ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কৃষি বীমার সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির উদ্ভাবন, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
প্রস্তাবিত বাজেট ‘জীবন বান্ধব’: প্রধানমন্ত্রী
ইন্টারনেটের মূল্য আরও সহনীয় করতে বাংলালিংককে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সংসদে একগুচ্ছ সুখবর