নামাজে সূরা ভুলে গেলে কী করবেন

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

নামাজ—মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। দিনে পাঁচবার আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে কথা বলার এ সুযোগে আমরা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে চাই; কিন্তু মানুষ হিসেবে ভুলে যাওয়া আমাদের স্বভাব। কখনো সুরা ভুলে যাই, কখনো আয়াত এলোমেলো হয়ে যায়— আর তখনই মনে প্রশ্ন জাগে, ‘আমার নামাজ কি হলো?’  নামাজে সুরা বা আয়াত ভুল হলে কী করতে হবে? 

চলুন জেনে নিই, ভুলের মুহূর্তে কীভাবে সুন্নত অনুযায়ী সংশোধন করবেন এবং নিশ্চিন্ত মনে নামাজ আদায় করবেন। ইসলাম এ বিষয়ে আমাদের জন্য সহজ ও বাস্তবসম্মত নির্দেশনা দিয়েছে। ভুলের ধরন অনুযায়ী হুকুম ভিন্ন হয়ে থাকে।

১. সুরা শুরু করে মাঝখানে ভুলে গেলে

 

যদি কেউ সুরা শুরু করে মাঝখানে ভুলে যায় এবং সামনে আর মনে না আসে; তখন করনীয়— অন্য কোনো আয়াত বা সুরা দিয়ে নামাজ পড়া পূর্ণ করবে এবং নামাজ শেষে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। কারণ ওয়াজিব তরক হয়েছে।

২. সুরা পুরোপুরি পড়তেই ভুলে গেলে

ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা পড়া ওয়াজিব। যদি সুরা একেবারেই না পড়ে রুকুতে চলে যায়; তাহলে করনীয় হলো— নামাজ শেষে সিজদায়ে সাহু আদায় করতে হবে।

৩. ভুল সুরা পড়া বা ধারাবাহিকতা এলোমেলো

নামাজে ভুল সুরা পড়া বা ধারাবাহিকতা এলোমেলো হয়ে গেলে যেমন— সুরা কাফিরুনের আগে সুরা নাস পড়া অথবা সুরার আয়াত এলোমেলো পড়া। এতে নামাজ সহিহ হবে, তবে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।

৪. রুকুতে যাওয়ার পর সুরা মনে পড়লে

যদি রুকুতে যাওয়ার পর মনে পড়ে যে সুরা পড়া হয়নি— ফরজ নামাজে রুকু থেকে ফিরে দাঁড়িয়ে সুরা পড়বে আবার রুকু করবে শেষে সিজদায়ে সাহু দেবে।

সিজদায়ে সাহু কিভাবে করবেন?

শেষ বৈঠকে (আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর)—

> ডানে সালাম ফিরাবেন; এরপর

> দুইটি সিজদা করবেন; পুনরায়

> তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া পড়বেন। অত:পর

> উভয় দিকে সালাম ফিরাবেন

আল্লাহ তাআলা বলেন—

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮৬)

হাদিসে এসেছে—

إِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ

‘তোমাদের কেউ নামাজে ভুলে গেলে সে যেন দুইটি সিজদা করে।’ (মুসলিম ৫৭২, বুখারি ১২২৪)

নামাজে ভুল হওয়া মানুষের স্বভাবগত দুর্বলতা; আর এই দুর্বলতাকেই আল্লাহ তাআলা তার রহমত দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। সুরা বা আয়াত ভুলে গেলে নামাজ বাতিল হয়ে যায় না— বরং সঠিক নিয়মে সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে তা পূরণ করার সুযোগ দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, ইসলাম কোনো কঠোর দ্বীনের নাম নয়; বরং এটি সহজ, বাস্তবসম্মত ও মানবিক। ভুল হলে হতাশ না হয়ে সুন্নত অনুযায়ী সংশোধন করাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত