চাদরের ভেতর হাত রেখে নামাজ পড়লে শুদ্ধ হবে কী?

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৩ এএম

শীতে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন গরম পোশাক পরিধানের প্রয়োজন হয়। সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, চাদর যার যার চাহিদা প্রয়োজনমতো পোশাক পরিধান করেন। শীত থেকে রক্ষা পেতে অনেকে নামাজের সময় চাদরের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে রাখেন। এতে নামাজ হয়ে যাবে। কোনো সমস্যা নেই।

আলেমদের মতে, শীতকালে নামাজ আদায় করার সময় চাদর এমনভাবে গায়ে দেওয়া উচিত, যেন প্রয়োজনে সহজেই হাত বাইরে বের করা যায়। কিন্তু চাদর এভাবে সম্পূর্ণ পেঁচিয়ে নেওয়া, যাতে হাত বের করার কোনো সুযোগই না থাকে এবং হাত বাইরে বের করা সম্ভব না হয়, তাহলে এটি মাকরূহ।

তবে যদি চাদর এমনভাবে গায়ে দেওয়া থাকে, যাতে চাইলে হাত বাইরে বের করা যায়, সে ক্ষেত্রে নামাজে দাঁড়ানো ও বসা উভয় অবস্থায় যদি দুই হাত চাদরের ভেতরেই থাকে, তাতে কোনো অসুবিধা বা নিষেধ নেই।

অনেক সময় নামাজে চাদর ঠিক করা নিয়ে সমস্যা হয়। কখনো কখনো চাদর তুলে ঠিক করতে গেলে নামাজে সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নও থেকে যায়। যেমন একজন জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছেন—

‘ শীতকালে কিছু মুসল্লীকে দেখা যায়, নামাজের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় গায়ের চাদর পড়ে গেলে এমনভাবে চাদর তুলেন যে, সিনা কেবলার দিক থেকে ফিরে যায়। তাদের নামাজের হুকুম কী? কতুটুকু ফিরার কারণে নামা ভেঙ্গে যাবে? জানতে চাই।

এ বিষয়ে ইসলামী আইন ও ফেকাহ শাস্ত্রবিদেরা বলেন, নামাজের সিনা কিবলার দিক থেকে সামান্য ফিরে গেলে নামাজ ফাসেদ হয় না। আর নামাজি ব্যক্তি যদি সঠিকভাবে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে চাদর ঠিক করতে গিয়ে সীনা যে পরিমাণ ঘুরে তা সাধারণত খুব সামান্য হয়ে থাকে। এর কারণে নামাজ নষ্ট হবে না।

কিন্তু যদি চাদর ঠিক করতে গিয়ে সীনা কিবলা থেকে এতো বেশি ঘুরে যায় যে, সীনা কিবলা থেকে ৪৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি উত্তর বা দক্ষিণ দিকে চলে আসে তাহলে এ অবস্থায় তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় অতিবাহিত হলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। এর চেয়ে কম সময় হলে নামাজ নষ্ট হবে না।

চাদর গায়ে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নামাজ শুরু করার পূর্বেই গায়ের চাদর এমনভাবে পরে নেওয়া উচিত যেন তা নামাযের মধ্যে পড়ে না যায়। (রদ্দুল মুহতার ১/৬২৬)

HN
আরও পড়ুন