ইসলাম ও নৈতিকতা পরকীয়ার সম্পর্ককে কখনোই মেনে নেয় না। ইসলাম এ-জাতীয় অবৈধ সম্পর্কের ভয়াবহ শাস্তির বিধান দিয়েছে। বিয়ের পর পরকীয়া করলে বিবাহিত ব্যক্তির তো শাস্তি আছে। অবিবাহিত ব্যক্তি যদি বিবাহিত ব্যক্তির সঙ্গে এই যিনা করে, তাহলে কী শাস্তি?
মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম বলেন, যদি বিবাহিত ও অবিবাহিত পরস্পরের সম্মতিতে যিনা করে এবং শরিয়তসম্মত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে উভয়ের যিনা করা প্রমাণিত হয়, তাহলে শরিয়তের নির্ধারিত শাস্তি অনুযায়ী বিবাহিতদের শাস্তি হলো রজম (পাথর মেরে হত্যা), আর অবিবাহিতদের শাস্তি হলো ১০০ বেত্রাঘাত।
তাদের একজনের জন্য নির্ধারিত শাস্তি অন্যজনের কারণে কোনো প্রকার লঘুতা বা কঠোরতা করা হবে না; বরং শরিয়ত অনুযায়ী উভয়ের জন্য পৃথক পৃথক শাস্তি কার্যকর করার বিধান রয়েছে।
হাদিসে নববীতে ব্যভিচারের ভয়ানক শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। রসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘হে মুসলমানগণ! তোমরা ব্যভিচার পরিত্যাগ কর। কারণ, এর ছয়টি শাস্তি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দুনিয়াতে ও তিনটি আখেরাতে প্রকাশ পাবে। যে তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে হয় তা হচ্ছে: তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়ে যাবে, তার আয়ু সংকীর্ণ হয়ে যাবে, তার দারিদ্রতা চিরস্থায়ী হবে। আর যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে: সে আল্লাহর অসন্তোষ, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।’ (বায়হাকি, হাদিস ৫৬৪)
উল্লেখিত পুরুষ ও নারী যিনা করে অত্যন্ত জঘন্য গুনাহে লিপ্ত হয়েছে। তারা যদি এ গুনাহ থেকে তওবা না করে, তাহলে আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। তবে দুনিয়াতে শরিয়ত নির্ধারিত হদ (শাস্তি) কার্যকর করার অধিকার ইসলামী সরকার ও বিচার বিভাগের; কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা সাধারণ মানুষ নিজে থেকে এ শাস্তি কার্যকর করতে পারবে না।
এ ছাড়া আমাদের দেশে ইসলামী বিচারব্যবস্থা না থাকায় ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি কার্যকর করার কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ বিমানে দুই কালজয়ী চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ
সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধন: নাগরিক সুরক্ষা ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য