ধর্মে-বর্ণে বৈচিত্র্য থাকলেও সৃষ্টিগতভাবে সব মানুষই এক। সবাইকে আল্লাহ আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর ইসলাম আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ইসলাম বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে।
সমাজের প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। মুসলিম সমাজেও অমুসলিমরা নিজেদের পরিমণ্ডলে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবে। অমুসলিমদের যেসব রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান ধর্ম পালনের অংশ, সেগুলোতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেন, তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আমার দ্বীন আমার। (সুরা : কাফিরুন, আয়াত : ৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১) অন্য একটি বর্ণনায় খলিফা হযরত উমর (রা.) বলেছেন, তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাক। (আস্সুনানুল কুবরা, হাদিস ১৮৮৬২)
একটি হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, যারা বিধর্মীদের মতো উৎসব করবে, কিয়ামতের দিবসে তাদের হাশর ওই লোকদের সাথেই হবে। (আস্সুনানুল কুবরা, হাদিস ১৫৫৬৩)
ঈমান ও ইসলাম হচ্ছে- একক ও নিরঙ্কুশ বিষয়। এখানে কোনো প্রকারের মিশ্রণের ন্যূনতম সুযোগ নেই। মদীনায় ইসলামপূর্বে নওরোজ ও মেহেরজান নামে দুটি উৎসব চালু ছিলো। সাহাবীগণ ওই দুই উৎসব পালন করতে চাইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পালনের অনুমতি দেননি। বরং এর উত্তম বিকল্প হিসেবে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র দুটি ধর্মীয় উৎসব- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপহার দিয়েছেন।