আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তার বান্দারা যখন ইস্তিগফার পড়ে তখন আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।
আল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝে গোনাহ করার সামর্থ্য দিয়েছেন। এর অর্থই হলো তার দ্বারা গোনাহ হওয়া স্বাভাবিক এবং সে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে আবার তওবা ইস্তেগফার করবে তাও স্বাভাবিক।
কেউ গুনাহ করে তওবা করবে তিনি এতেই খুশি হন। কেউ যদি তওবা না করে তখনই তিনি নারাজ হন। পৃথিবীর কেউ গোনাহ না করলে আল্লাহ তায়ালা নতুন জাতি সৃষ্টি করতেন- যে জাতি গোনাহ করবে ও আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে সত্তার হাতে আমার জীবন, আমি তার কসম করে বলছি, তোমরা যদি পাপ না করতে, তবে অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে এমন সম্প্রদায় বানাতেন যারা পাপ করে ক্ষমা চাইতো এবং তিনি তাদের মাফ করে দিতেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৭৪৯)
হাদিস শরিফে এমন একটি দোয়া আছে, যেই দোয়ার মাধ্যমে তওবা করলে মহান আল্লাহ বান্দার সমুদ্রের ফেনা সমপরিমাণ গোনাহও মাফ করবেন বলে রাসুল (সা.) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সেই দোয়াটি হচ্ছে- (উচ্চারণ) ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
অর্থ : আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমার আবেদন করছি, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর নিকট তওবা করছি।
হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেন, বিছানায় শুয়ে এই দোয়াটি তিনবার পাঠ করলে, আল্লাহ তায়ালা তার গোনাহসমূহ মাফ করে দেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমপরিমাণ হয়, যদিও তা গাছের পাতার মতো অসংখ্য হয়, যদিও তা টিলার বালিরাশির সমান হয়, যদিও তা দুনিয়ার দিনসমূহের সমসংখ্যক হয়। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৯৭)
একজন মুমিনের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার হলো দোয়া। আল্লাহ অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেন দোয়া কবুলের মাধ্যমে। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ (সুরা মুমিন, আয়াত : ৬০)
আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি দোয়া করার তাওফিক দান করেন। আমীন।

