হজরত আদম (আ.)-কে আল্লাহর দেওয়া পাঁচটি বিশেষ মর্যাদা

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩৮ এএম

আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি (খলিফা) হিসেবে প্রেরণ করেছেন। এই প্রতিনিধিত্বের সূচনা হয়েছে হজরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। তিনি শুধু মানবজাতির প্রথম ব্যক্তি নন, বরং একজন নবী হিসেবে পেয়েছেন এমন পাঁচটি বিশেষ মর্যাদা, যা অন্য কোনো সৃষ্টির মাঝে নেই। না ফেরেশতা, না জিন, না শয়তান, এমনকি পরবর্তীকালের কোনো মানুষ।

ফেরেশতাদের বিস্ময় ও আল্লাহর জবাব

আল্লাহ যখন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করতে চাইলেন, তখন ফেরেশতারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিল, আপনি কি এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যারা দুনিয়ায় ফাসাদ সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? (সুরা বাকারা, আয়াত: ৩০)। জবাবে আল্লাহ বলেন, আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না। এরপর আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং তার প্রতি সিজদার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আল্লাহর পক্ষ থেকে আদম (আ.)-কে দেওয়া পাঁচটি বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব:

১.আল্লাহ আদম (আ.)-কে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে

আল্লাহ বললেন, ‘হে ইবলিশ, আমার দু’হাতে আমি যাকে সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহঙ্কার করলে, না তুমি অধিকতর উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’ (সুরা সোয়াদ, আয়াত : ৭৫)

২. আল্লাহ তায়ালা নিজে আদম (আ.)-এর মধ্যে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে

‘যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে যাও’। (সুরা সোয়াদ, আয়াত : 

৩. আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.)-কে সব বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে

আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষাদিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন, ‘এগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩১)

৪. তাকে সিজদা করার জন্য আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে

আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘তোমরা আদমকে সিজদা কর’। তখন তারা সিজদা করল, ইবলিশ ছাড়া। সে অস্বীকার করল এবং অহঙ্কার করল। আর সে হল কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩৪)

৫. আদম (আ.) একাই মাত্র মাটি থেকে সৃষ্ট। বাকি অন্য সবাই পিতা-মাতার মাধ্যমে সৃষ্ট। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে

যিনি তার প্রতিটি সৃষ্টিকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন। তারপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে। তারপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে নিজের রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত : ৭-৯)

উপসংহার

আদম (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন, তা কেবল একটি সৃষ্টি হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল প্রতিনিধি ও জ্ঞানধারী হিসেবে। তিনি ছিলেন এমন এক সৃষ্টির সূচনা, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছেন ‘জ্ঞান’, ‘রূহ’, এবং ‘সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব’ যা মানবজাতিকে করেছে অনন্য ও মর্যাদাসম্পন্ন।

এই পাঁচটি শ্রেষ্ঠত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষকে শুধু দুনিয়াবি স্বার্থে নয়, বরং দায়িত্বশীল, সচেতন ও সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

DR
আরও পড়ুন