একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকেই সরাসরি পানযোগ্য পানি উৎপাদনের এক অভাবনীয় প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে পানিসংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ওমর ইয়াঘি এমন একটি উন্নত যন্ত্রের ধারণা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা অত্যন্ত শুষ্ক মরুভূমির পরিবেশেও বাতাস থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহ করে বিশুদ্ধ পানি তৈরি করতে সক্ষম।
যন্ত্রটি আকারে একটি বড় শিপিং কন্টেইনারের মতো। এর ভেতরে ব্যবহার করা হয়েছে মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক নামের এক অভিনব উপাদান, যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত একটি ন্যানো-গঠন। রাতের বেলায় এই উপাদান বাতাসে থাকা অল্প পরিমাণ জলীয় বাষ্প শোষণ করে নিজের মধ্যে আটকে রাখে। এরপর সূর্য উঠলে সৌর তাপের সাহায্যে সেই আর্দ্রতা ধীরে ধীরে মুক্ত হয় এবং তা ঘনীভূত হয়ে পরিষ্কার, পানযোগ্য পানি হিসেবে সংগ্রহ করা হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সম্পূর্ণভাবে সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে। ফলে কোনো গ্রিড, কূপ বা পাইপলাইনের প্রয়োজন হয় না। নকশা অনুযায়ী এই ধরনের একটি ইউনিট প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লিটার পর্যন্ত পানি উৎপাদন করতে পারে, যা একটি ছোট গ্রাম বা কমিউনিটির মৌলিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো এর সরলতা এবং টেকসইতা। পানি সংকটে থাকা অঞ্চলে, বিশেষ করে মরুভূমি বা দূরবর্তী এলাকায়, যেখানে ভূগর্ভস্থ পানি সহজলভ্য নয়, সেখানে এটি একটি বিকল্প উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পানিসংকট মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথমবারের মতো এআই দিয়ে তৈরি হলো ‘সুপার ভ্যাকসিন’