ডলারের দাম একলাফে ৭ টাকা বৃদ্ধির এক সপ্তাহ পার না হতেই বাজারে কোরবানি ঈদের অন্যতম প্রধান উপকরণ মসলার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র এলাচের দাম এক লাফে সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মানভেদে এলাচের বর্তমান বাজার মূল্য ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। আদা-রসুন, এলাচ এবং দারুচিনির দামও এখন চড়া।
মুসলমানদের দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ। এই ঈদে কেনাকাটার এতটা আগ্রহ না থাকলেও কোরবানি নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। বিশেষ করে শিশু-তরুণদের মাঝে এ উৎসাহ লক্ষ্য করা যায় বেশি। আর পরিবারের অভিভাবকেরা কোরবানির আয়োজন কীভাবে করা যায় তা একটু আগে থেকেই চিন্তা করেন। কোরবানি ঈদের প্রধান আলোচনায় গরু থাকলেও এর সাথে সম্পৃক্ত আছে আরও অনেক কিছু। ঈদে নিত্যপণ্যের মতো মসলাও তো একদমই অপরিহার্য পণ্য। তাই ঈদ ঘনিয়ে আসার আগেই প্রায় প্রতিটি পরিবার অগ্রীম মসলা কিনে রাখার অভ্যাস প্রায় পুরনো। এর পিছনেও ক্রেতাদের যুক্তি রয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে আসলেই বিক্রেতার এই পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দেন কয়েক গুণ।
এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঈদের বাকি একমাসের অধিক সময় থাকলেও এরই মধ্যে বাজারে প্রায় সব ধরণের মসলার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। কোনো কোনো মসলার দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।
ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে মসলার দাম বাড়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যমআয়ের মানুষ। ঈদের আগে মসলা, তেল, চাল-ডালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবকিছুর দাম বাড়ছে, তাই এখন মসলার দামও বাড়ছে। তবে চাল-ডাল, তেল-আটার দাম যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে মসলার দাম বাড়েনি বলে দাবি করেন তাঁরা। দাম বৃদ্ধির পেছনের যুক্তি হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম বাড়ার কারণে পণ্য আমদানিতে খরচ বেড়েছে। দেশের ভেতরে পণ্য আনা নেওয়ার খরচও বেড়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার স্বার্থে অন্য পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম বৃদ্ধি হতেই পারে।
বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ দৈনিক খবর সংযোগকে বলেন, এলাচ সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর মসলা। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটির দাম কিছুট্ বেড়েছে। এছাড়া ভারতে এলাচের দামও কিছুটা বেড়েছে। যেহেতু এলাচ ছাড়া অনান্য মসলার দামের খুব একটা পার্থক্য হয়নি তাই বাজারকে অস্থিতিশীল বলা যাবে না। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির সাথে সম্পৃক্ত ডলারের দাম স্থিতিশীল হওয়া জরুরি। এছাড়া, সরকারি নীতিও বিভিন্ন সময় পরিবর্তনের ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
মসলার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে এলাচের দাম। দুই মাস আগে প্রতি কেজি এলাচের দাম ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। খুচরায় এখন তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যস্ত উঠেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এলাচের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি।
এলাচের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে আমদানিকারকেরা বলছেন, বিদেশে এই পণ্যের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচও বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, আমদানি করা এলাচ কয়েক হাত বদলের পর খুচরায় এসে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। আমদানিকারক থেকে নিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী এলাচ মজুদ করে বেশি মুনাফা করছেন।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এ সপ্তাহের বাজারদরের তালিকানুযায়ী, ছোট আকারের এলাচের খুচরা দাম কেজি প্রতি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। এক বছর আগে (গত কোরবানির ঈদ বাজারে) ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাজারে এলাচের দাম বেড়েছে ৬২ শতাংশ। বাজারে বড় আকারের এলাচের দাম আরেকটু বেশি। খুচরা বাজারে বড় আকারের প্রতি কেজি এলাচি সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাবের) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ মসলা মজুত রয়েছে, তাতে আরও চার মাস চলবে। এছাড়াও অন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম বাড়েনি। কিন্তু বাজার তদারকি না থাকার কারণে পণ্যের দাম ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো বাড়াচ্ছে।

