মেসির ভাস্কর্য সরানোর নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ০২:৫৭ এএম

ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে লিওনেল মেসিকে নিয়ে উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। তবে সেই উন্মাদনার অংশ হিসেবে কলকাতায় স্থাপন করা মেসির এক বিশাল ভাস্কর্য এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তীব্র বাতাসে ভাস্কর্যটি দুলতে থাকায় সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

কলকাতা মহানগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেএমডিএ) অধীনে লেকটাউন এলাকার একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে সোনালি রঙের এই দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছিল। যেখানে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কেন সরানো হচ্ছে মেসির ভাস্কর্য?

গত বছরের ডিসেম্বরে ‘গোট ট্যুর অব ইন্ডিয়া’ (GOAT Tour of India) উপলক্ষে এই ভাস্কর্যটি উন্মোচন করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই ৭০ ফুট উঁচু এই কাঠামোটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা।

পশ্চিমবঙ্গের আইনপ্রণেতা শরদ্বত মুখার্জি এই বিষয়ে জানান:

"সরকারি প্রকৌশলীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভাস্কর্যটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তীব্র বাতাসে কাঠামোটি বিপজ্জনকভাবে দুলছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে এটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ স্থানীয় কর্মীদের ভাস্কর্যটিতে মোটা দড়ি বেঁধে কোনোমতে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

অপসারণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা

ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ৭০ ফুটের এই বিশাল কাঠামোটি নিরাপদভাবে নামানো বেশ কঠিন ও জটিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যানজটের আশঙ্কা: ভাস্কর্যটি নামাতে একাধিক বড় ক্রেনের প্রয়োজন হবে। কিন্তু লেকটাউনের মতো অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনাকীর্ণ এলাকায় এই কাজ করতে গেলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন: সুরক্ষার স্বার্থে ক্রেন অপারেশনের সময় ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজন হতে পারে।

সাবওয়ে জটিলতা: ভাস্কর্যের ঠিক পাশেই একটি সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ পথ) থাকায়, সেখানে ভারী ক্রেন বসানো কতটুকু নিরাপদ হবে—তা নিয়ে প্রকৌশলীরা সংশয়ে আছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কারিগরি জটিলতাগুলো কাটিয়ে দ্রুতই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এখান থেকে সরানোর পর শহরের অন্য কোথাও এটি পুনরায় স্থাপন করা হবে কি না, সে বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

HN
আরও পড়ুন