‘মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবো’, ইংল্যান্ডের সাবেক তারকার হুঙ্কার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মহারণের আগে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের বাইরেও। সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার জো কোল। লিওনেল মেসিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শুধু আত্মবিশ্বাসই দেখাননি, ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে ইংল্যান্ড শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। তবে সেই আত্মবিশ্বাস এবার রীতিমতো হুঙ্কারে রূপ নিয়েছে সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার জো কোলের কণ্ঠে।

ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার ও মিকা রিচার্ডসের সঙ্গে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে কোল বলেন, ‘আমরা ওকে (মেসি) ঘুম পাড়িয়ে দেব। আমরা ওকে পুরোপুরি থামিয়ে দেব। শতভাগ।’

তার এমন মন্তব্যে উপস্থিত অন্যরা সতর্ক করে বলেন, ‘এখন এসব বলো না, ম্যাচের কাছাকাছি গিয়ে বলো।’ কিন্তু কোল নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি। বরং আরও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি এখনই বলছি। আমরাই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠব।’

তবে জো কোলের এই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস। তার মতে, আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে ইংল্যান্ডকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে।

রিচার্ডস বলেন, ‘আর্জেন্টিনা খুবই ধূর্ত এবং জয়ের মানসিকতায় ভরপুর একটি দল। তবে আমাদেরও গতি আছে, যা তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। আমার বিশ্বাস, আমরা জিতব।’

মেসিকে নিয়ে জো কোলের এমন কঠোর মন্তব্য অনেককেই বিস্মিত করেছে। কারণ অতীতে তিনিই একাধিকবার আর্জেন্টাইন অধিনায়কের প্রশংসা করেছেন এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়েও তাকে এগিয়ে রেখেছেন।

সেসময় কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রাতে ঘুমানোর আগে ভাবেন, ইশ, আমি যদি মেসির মতো ভালো হতে পারতাম। মেসিই একমাত্র ফুটবলার, যে সবকিছু জিতেছে। তাই একমাত্র মেসিই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।’

সেমিফাইনালকে ঘিরে মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক অধিনায়ক গ্যারি নেভিলও। তবে তিনি মেসিকে নয়, আর্জেন্টিনার দুই সেন্টার-ব্যাক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে নিয়ে কথা বলেন।

নেভিলের ভাষায়, ‘রোমেরো আর লিসান্দ্রোকে দেখলে মনে হয়, প্রতিটি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে একটি গোল উপহার দেবে। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালেই তারা যেন বদলে যায়। তখন তারা প্রতিটি হেড জেতে, গোল করে এবং পুরো ম্যাচে দাপট দেখায়। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমি ওদের বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ সেন্টার-ব্যাক জুটি বলি। কারণ এক মুহূর্তে তারা অসাধারণ, আবার পরের মুহূর্তেই এমন ভুল করে বসে, যা বিশ্বাস করা কঠিন।’ 

AS
আরও পড়ুন