ইরাকের বিপক্ষে রঙিন শুরুর পর এবার সেনেগালকেও হারিয়ে দিল নরওয়ে। দলটির পোস্টার বয় আর্লিং হালান্ডের আরও একটি দুর্দান্ত জোড়া গোলের ওপর ভর করে আফ্রিকার পরাশক্তি সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলেছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। ওই আসরে শেষ ষোলোয় (নকআউট পর্ব) ইতালির কাছে হেরে নরওয়ের বিদায় হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ (নিউ জার্সি) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে নরওয়েকে এগিয়ে নেন মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে হালান্ড জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অবশ্য ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে সেনেগাল আরও একটি গোল শোধ করে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
ম্যাচ হারলেও বল দখল ও আক্রমণে নরওয়ের চেয়ে এগিয়ে ছিল সাদিও মানের সেনেগাল। পুরো ম্যাচের ৫৭ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নরওয়ের বক্সে ১৬টি আক্রমণ চালায় আফ্রিকার দলটি। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ বল দখলে রাখা নরওয়ে আক্রমণ করে ১২টি। তবে দুই দলই সমান ৬টি করে শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল।
ম্যাচের শুরু থেকে সেনেগাল আক্রমণাত্মক খেললেও ৪৩ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙে নরওয়ে। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে ডান পায়ের এক শক্তিশালী শটে গোল করেন মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেন। বলটি সেনেগালের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালের ওপরের মাঝখানে জড়িয়ে যায়। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নরওয়ে।
বিরতি থেকে ফিরেই নিজের বিধ্বংসী রূপ দেখান আর্লিং হালান্ড। খেলার ৪৮ মিনিটে এক দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের চমৎকার পাস পান তিনি। এরপর বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের ওপরের ডান কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই স্ট্রাইকার। তবে ৫৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ফেরে সেনেগাল। বক্সের বাইরে বল পেয়ে চমৎকার এক ফ্লিকে বক্সের ভেতরে ইসমাইলা সারের দিকে বাড়ান সাদিও মানে। ক্রিস্টাল প্যালেসের এই উইঙ্গার ডিফেন্ডারদের চাপের মুখেও এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান।
অবশ্য এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই অর্থাৎ ৫৮ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ায় নরওয়ে। পেদারসেনের পাস থেকে বক্সের ভেতর হালান্ড ও নুসার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে বল পেয়ে যান প্যাট্রিক বার্গ। তিনি বল নিয়ে বক্সের বাঁ দিকে ঢুকে ছয় গজ বক্সের কিনারায় পাস দিলে সেখানে ওত পেতে থাকা হালান্ড শক্তিশালী শটে বল জালের ছাদে ঠুকে দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনে মেতে ওঠেন।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের ৩ মিনিটে (৯৩ মিনিটে) ইসমাইলা সার নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করলে ম্যাচ জমে ওঠে। নরওয়ের ছন্নছাড়া ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে চেলসি তারকা নিকোলাস জ্যাকসনের পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষক অরইয়ান নিয়ল্যান্ডকে পরাস্ত করেন সার। শেষ দিকে সেনেগাল সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগ পেলেও নরওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ফলে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী ২৭ জুন শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। একই দিনে গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেনেগাল।
এমবাপের জোড়া গোলে ইরাককে হারালো ফ্রান্স
বিশ্বকাপে ১৮ গোলের মেসির কাছে সেরা কোনটি?
বিশ্বকাপে কেন মাটিতে রাখা হয় না সৌদির পতাকা