সেমিফাইনালে কখনো হারেনি : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফেবারিট আর্জেন্টিনা?

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫২ এএম

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই আর্জেন্টিনার জন্য এক পরম সৌভাগ্যের মঞ্চ। ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের শেষ চারে পা রাখলেই আলবিসেলেস্তেদের ফাইনাল খেলা একেবারে নিশ্চিত।

৯৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা এ পর্যন্ত পাঁচবার সেমিফাইনালে খেলেছে। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিবারই তারা প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

এবার তাদের সামনে বিশ্ব ফুটবলের আরেক পরাশক্তি সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। তবে ১৫ জুলাইয়ের এই মেগা ম্যাচের আগে আকাশী-নীল শিবিরকে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে অতীত পরিসংখ্যান।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার অনন্য পথচলা:

 

আর্জেন্টিনা প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিল ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী আসরে। সেবার যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিলেও ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তারা।

দীর্ঘ ৫৬ বছরের খরা কাটিয়ে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আবারো শেষ চারে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যারাডোনার জাদুকরী জোড়া গোলে বেলজিয়ামকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেবার দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল তারা।

এখানে একটি দারুণ পরিসংখ্যান রয়েছে; ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও সেবার কোনো সেমিফাইনাল ছিল না। সরাসরি দ্বিতীয় গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনালে উঠে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল তারা।

এরপর ১৯৯০ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইতালির মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে তারা।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও একই রোমাঞ্চের পুনরাবৃত্তি ঘটে। নেদারল্যান্ডসের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট কাটে লিওনেল মেসির দল।

সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে ধুলোয় মিশিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা।

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা: মহাকাব্যিক দ্বৈরথ

এবার টেক্সাসের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক এই দ্বৈরথ দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব। একদিকে আর্জেন্টিনার শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড, অন্যদিকে ৬০ বছর পর ফাইনালে ওঠার ইংলিশ স্বপ্ন।

পরিসংখ্যানের এই ধারা বজায় রেখে মেসিরা কি টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠবে, নাকি ইংল্যান্ড লিখবে নতুন ইতিহাস? ফুটবল প্রেমীদের সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী ১৫ জুলাই মাঠের লড়াইয়ে।

তথ্যসূত্র (Source): ফিফা বিশ্বকাপ অফিসিয়াল পরিসংখ্যান ও ঐতিহাসিক ম্যাচ রেকর্ডস (FIFA World Cup Historical Statistics).

HN
আরও পড়ুন