রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার জয়ের পথ তখন প্রায় তৈরি। জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৮২ রান, হাতে ছিল উইকেটও। পাভান রত্ননায়েকে ও জনিথ লিয়ানাগের ১১৯ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল সফরকারীরা। কিন্তু চার বলের ব্যবধানে দুটি ভুল শট শ্রীলঙ্কার জয়ের সম্ভাবনা ভেঙে দেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ত্রিদেশীয় একদিনের সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। এর আগে সালমান আলী আগার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৩০৫ রান তুলেছিল স্বাগতিকেরা।
রোববার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক সালমান। ৯০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দুই মাস আগে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর পাকিস্তান দলে ফিরে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই ব্যাটার। তাঁর সেঞ্চুরিই পাকিস্তানকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শেষ দিকে হ্যারিস রউফ ও শাহিন শাহ আফ্রিদির গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সালমানের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের লড়াকু সংগ্রহ
টসের পর ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই ধাক্কা খায়। দিলশান মাদুশঙ্কার বলে সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার ফখর জামান ও সাইম আইয়ুব। এরপর বাবর আজম ও সাদ বেগ তৃতীয় উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে ইশান মালিঙ্গার বাউন্সারে বাবর ৪৫ রানে এবং সাদ ৩৯ রানে আউট হলে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর সালমান আলী আগা ও হাসান নওয়াজের জুটি দলকে এগিয়ে নেয়। দুজনে মিলে যোগ করেন ৯৭ রান। শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রানের গতি বাড়াতে থাকেন সালমান।
ইনিংসের ৩৫তম ওভারে এক রান নিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এরপর ফাঁকা জায়গায় বল পাঠিয়ে রান সংগ্রহের পাশাপাশি আলগা বলগুলোকে সীমানাছাড়া করতে থাকেন। অন্য প্রান্তে হাসানও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। সচিন্দু কলম্বাগের এক ওভারেই দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। এর মধ্যে একটি ছিল স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে মারা শক্তিশালী স্লগ সুইপ।
এরপর ইনিংসের দায়িত্ব আরও জোরালোভাবে নিজের হাতে তুলে নেন সালমান। দাসুন শানাকার বল লেগ সাইডে সীমানার বাইরে পাঠানোর পর মালিঙ্গার ধীরগতির বল লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন তিনি। ৪৫তম ওভারে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান এই ব্যাটার। ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চার মারার পর আরেকটি ফুল লেংথের বল ব্যাটের কানায় লেগে ফিল্ডারদের পাশ কাটিয়ে থার্ড ম্যানের দিকে চলে গেলে সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় তাঁর।
তবে পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ ভাগে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। শর্ট মিডউইকেটে পাভান রত্ননায়েকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৭ রানে ফেরেন হাসান। এরপর আসিথা ফার্নান্দো ১৮ রান করা আরাফাত মিনহাসকে ফিরিয়ে দেন। ২৭৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় পাকিস্তান, যখন লং-অনে শানাকার হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০৭ রানে বিদায় নেন সালমান।
এরপর মালিঙ্গা পরপর ফাহিম আশরাফকে আউট করেন এবং নাসিম শাহকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। শেষ দিকে নিখুঁত ইয়র্কারে পাকিস্তানের ব্যাটারদের আটকে রাখে শ্রীলঙ্কার বোলাররা। শেষ ওভারে রানআউট হন হ্যারিস রউফ। ৪৯.৫ ওভারে ৩০৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। মালিঙ্গা ৪৬ রান দিয়ে চার উইকেট নেন।
রত্ননায়েক-লিয়ানাগের জুটিতে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা
৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহ শুরুতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেন। একপর্যায়ে ৯১ রানে চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দলটি।
সেখান থেকে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন পাভান রত্ননায়েকে ও জনিথ লিয়ানাগে। দুজনই পরিস্থিতি বুঝে ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাটিং করেন, আবার সুযোগ পেলেই আক্রমণে যান। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বল ও মাঠের আউটফিল্ড শিশিরে ভিজে আরও পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। এতে পাকিস্তানের পেসারদের জন্য পুরোনো বলে রিভার্স সুইং আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে। বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোয় শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের রান তোলার সুযোগও বাড়ে।
শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করা রত্ননায়েকে পরে হাত খুলে খেলতে থাকেন। আরাফাত মিনহাসের বল দেরিতে কেটে ডিপ পয়েন্ট দিয়ে সীমানায় পাঠানোর পর সাইম আইয়ুবের বল টেনে ডিপ মিডউইকেটের দিকে চার মারেন তিনি। ৩১তম ওভারে আরাফাতের বলে এক রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন রত্ননায়েকে। এরপর শাহিনের পরপর দুটি শর্ট বল স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে সীমানাছাড়া করেন।
অন্য প্রান্তে লিয়ানাগেও দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। নাসিম শাহের বল মিড-অফ ও এক্সট্রা কভারের মাঝ দিয়ে সীমানায় পাঠান তিনি। পরে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে আরাফাতের বল সোজা মাঠের বাইরে মারেন। দুজনের নিয়মিত এক-দুই রান নেওয়ার ফলে স্কোরবোর্ড সচল থাকে, আর উইকেটের দেখা না পেয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
৩৮তম ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে শর্ট কভারে সালমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রত্ননায়েকে। ৭৪ বল খেলে তাঁর এই আউটের মধ্য দিয়ে ভাঙে ১১৯ রানের জুটি। তবে তাতেও স্বস্তি ফেরেনি পাকিস্তান শিবিরে। ক্রিজে এসেই আক্রমণ শুরু করেন শানাকা। ফাহিমের বলে চার মারার পর এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি আদায় করেন তিনি। এরপর আরাফাতের বল স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান।
লিয়ানাগেও তখন অর্ধশতক তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। শেষ ১০ ওভারে ৮২ রান প্রয়োজন থাকায় ম্যাচের ফল তখনও অনিশ্চিত ছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাই শেষ পর্যন্ত নষ্ট করে দেয় শ্রীলঙ্কার দুটি ভুল শট।
চার বলেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র
সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়া লিয়ানাগে হ্যারিস রউফের বলে লং-অনে বাবর আজমের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন। এরপর একই জায়গায় একই ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শানাকাও। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারান তিনি। মাত্র চার বলের ব্যবধানে এই দুই ব্যাটারের বিদায়ে হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
এরপর নাসিম শাহের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সচিন্দু কলম্বাগে। রান নেওয়ার ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন এশান মালিঙ্গা। শেষ পর্যন্ত আসিথা ফার্নান্দোকে বোল্ড করে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন হ্যারিস রউফ।
সালমান আলী আগার সেঞ্চুরি পাকিস্তানকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিয়েছিল। শেষ পাঁচ ওভারে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাও পাকিস্তানকে ৩০৫ রানে আটকে রেখে জয়ের পথ খোলা রেখেছিল। কিন্তু রান তাড়ার শেষ দিকে লিয়ানাগে ও শানাকার দুটি ভুল শটই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩৭ রানের জয় নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা করে পাকিস্তান। সূত্র: ডন
টি-টুয়েন্টির নতুন অধিনায়ক নাহিদা, জ্যোতির অভিনন্দন
জিম্বাবুয়ের কাছে টাইগারদের অসহায় আত্মসমর্পণ
প্রতিপক্ষ ইসরায়েলি হওয়ায় বিশ্ব বক্সিং প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন ইরানি বক্সার