শারজাহর সন্ধ্যায় শুরু হয়েছিল সাধারণ এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, কিন্তু শেষ হতে হতে তা রূপ নিল টানটান উত্তেজনার এক নাটকে। যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে বদলে গেছে ম্যাচের মোড়, আর শেষ দৃশ্যে নায়ক হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। প্রথমে বল হাতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং, পরে ব্যাট হাতে শেষ ওভারে বাউন্ডারি-সব মিলিয়ে এক অলিখিত হিরোর উত্থানের গল্প লিখেছে এই ম্যাচ।
জিততে প্রয়োজন ছিল ১৪৮ রান। কিন্তু কাজটা কঠিন হয়ে উঠেছিল টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত নুরুল হাসান সোহানের ২১ বলে ৩১ রানে ভর করে ২ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। তাতেই নিশ্চিত হয়েছে সিরিজ!
প্রথমে আফগানিস্তান ব্যাট হাতে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। পাওয়ারপ্লেতে ওপেনাররা ধীরে শুরু করে কিছুটা জমে ওঠেন, তবে ১৪৭ রানে ইনিংস থেমে যায়। ইবরাহিম জাদরান (৩৮) ও গুরবাজ (৩০) ছাড়া কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দিকে নবী ও ওমরজাই ক্যামিও খেললেও বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব ছিল বেশি। রিশাদ হোসেন ২টি উইকেট নেন, শরিফুল দেন মাত্র ১৩ রান আর নেন ১ উইকেট।
জয়ের লক্ষ্য খুব বড় না হলেও বাংলাদেশ ইনিংস শুরু করে ধাক্কা খেয়ে। দুই ওপেনার তানজিদ ও ইমন ফিরেছেন একই স্কোরে—২ রান করে। সাইফ হাসানও ঝলক দেখিয়েই বিদায় নেন। ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ তখনই ঝুঁকে পড়ে আফগানদের দিকে।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন শামীম হোসেন ও জাকের আলী। জুটি গড়ে তোলেন ইনিংসের ভিত্তি। তবে দুজনের বিদায়ের পর আবারও ছন্দপতন। নাসুম, সাইফউদ্দিন, রিশাদ-সবাই ফিরে গেলে ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে।
দল তখনও দরকার ২ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। ব্যাটে তখন শরিফুল ইসলাম, স্ট্রাইক তার কাছেই। আর তিনি আজমতউল্লাহর প্রথম বলেই লং অন দিয়ে চেপে ধরেন, বল গড়ায় সীমানার বাইরে। ম্যাচ শেষ, সিরিজ বাংলাদেশের ঘরে।
নুরুল হাসান সোহান ২১ বলে ৩১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছেন, কিন্তু শেষ কথাটি বলেছেন শরিফুল। এই জয় শুধু দুই পয়েন্টই নয়, সঙ্গে এনে দিয়েছে সিরিজের ট্রফিও।
শারজাহর এই ম্যাচ দেখিয়ে দিয়েছে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জয় পেতে শুধু বড় নাম নয়, প্রয়োজন সাহস, স্থিরতা আর সংকটে মাথা ঠান্ডা রাখার মানসিকতা। সোহান ও শরিফুল সেটাই করে দেখিয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৭/৫ (সেদিকউল্লাহ ২৩, ইব্রাহিম ৩৮, গুরবাজ ৩০, তারাখিল ১, রাসুলি ১৪, ওমারজাই ১৯*, নবি ২০*; শরিফুল ৪-০-১৩-১, নাসুম ৪-০-২৫-২, সাইফ উদ্দিন ৪-০-২২-০, রিশাদ ৪-০-৪৫-২)
বাংলাদেশ: ১৯.১ ওভারে ১৫০/৮ (তানজিদ ২, পারভেজ ২, সাইফ হাসান ১৮, জাকের ৩২, শামীম ৩৩, সোহান ৩১*, নাসুম ১১, সাইফ উদ্দিন ৪, রিশাদ ২, শরিফুল ১১*; মুজিব ৪-০-১৮-১, ওমারজাই ৩.১-০-২৩-৪, রশিদ ৪-০-২৯-২, নুর ৪-০-৪০-১)
ফল: বাংলাদেশ ২ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: শরিফুল ইসলাম
