একসময় ইউরোপীয় ফুটবলের ড্র অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু গত এক দশকে তিনি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। দুর্নীতিকাণ্ডে জর্জরিত ফিফার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সংগঠনটির আর্থিক শক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন।
২০১৬-তে সেপ ব্ল্যাটার-পরবর্তী সংকটের সময়ে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। দায়িত্ব নিয়ে তিনি সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং ফুটবলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নেতৃত্বকে ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
তার আমলে বিশ্বকাপের দলসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে আটচল্লিশে পৌঁছেছে, নতুন ক্লাব বিশ্বকাপ চালু হয়েছে এবং ফিফার আয় রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। সমর্থকদের একাংশের মতে, এসব পদক্ষেপ ফুটবলকে আরও বৈশ্বিক করেছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এতে খেলাটির বাণিজ্যিকীকরণ বেড়েছে এবং ক্ষমতা আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপকে অনেকেই ‘ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ’ বলে অভিহিত করছেন। উত্তর আমেরিকাজুড়ে আয়োজিত এই আসর তার দীর্ঘদিনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, উচ্চমূল্যের টিকিট নীতি এবং ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নৈতিকতা-সংক্রান্ত অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনও।
সমর্থকদের কাছে তিনি আধুনিক ফিফার স্থপতি, আর সমালোচকদের কাছে ক্ষমতা ও অর্থকেন্দ্রিক এক প্রশাসক। কিন্তু এতে সন্দেহ নেই যে, বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের গতিপথ নির্ধারণে ইনফান্তিনোর প্রভাব অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
বিশ্বকাপের আগে জার্মানি-পর্তুগালের জয়, কষ্টার্জিত জয়ে ইংল্যান্ড