বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার আর নেই

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার হিরু আর নেই।

সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর সহধর্মিণী ও কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেগম নুর আফরোজ হেপী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন গোলাম সরোয়ার হিরু। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৪৯ সালের ৩০ আগস্ট বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম সরোয়ার হিরু। স্থানীয় সরকারে দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি একাধিকবার কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি  সরকারগঠন প্রক্রিয়া  আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং ২০১৩ সালের বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। সমর্থকদের কাছে তিনি স্পষ্টভাষী, সাহসী ও জনবান্ধব রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় উন্নয়ন, জনসেবা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে বরগুনার রাজনীতিতে তিনি একটি পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বরগুনার সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ীরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টায় বরগুনা জেলা স্কুল মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জোহরের নামাজের পর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পাথরঘাটা কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ বিকেল ৪টায় নিজ গ্রাম কালমেঘা মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

MCH/YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত