লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বা আর্লিং হালান্দদের মতো মহাতারকাদের ছাপিয়ে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ছোট দেশ কেপ ভার্দে।
তবে রূপকথার মতো এক যাত্রা শেষে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ের থ্রিলারে ৩-২ ব্যবধানে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে এই ‘আন্ডারডগ’ দলটি। কিন্তু মিয়ামির মাঠে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর যখন ‘ব্লু শার্কস’ (কেপ ভার্দে দল)-এর ফুটবলাররা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, তখন তারা নিশ্চিতভাবেই কোটি ফুটবলপ্রেমীর মন জয় করে নিয়েছেন।
র্যাংকিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে যখন বিশ্বকাপে খেলতে আসে, তখন অনেকেই তাদের নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু গ্রুপ পর্বে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মতো পরাশক্তিকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জন করে তারা। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল করে এবং একের পর এক চমক দেখিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।
রানিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমে মেসির গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরে কেপ ভার্দে। ম্যাচ ১-১ সমতায় নিয়ে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আবারও পিছিয়ে পড়ার পর সিডনি লোপেস ক্যাব্রালের এক দুর্দান্ত ‘ওয়ান্ডার গোলে’ ২-২ সমতায় ফেরে তারা। পেনাল্টি শুটআউটের মাত্র ১০ মিনিট আগে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর একটি হেডার ডিফেন্ডার ডিনি বোর্গেসের গায়ে লেগে দুর্ভাগ্যবশত আত্মঘাতী গোল হলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সাবেক ইংলিশ রাইট-ব্যাক গ্যারি নেভিল বলেন, “কোনো আন্ডারডগ দলের কাছ থেকে দেখা এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।”
অন্যদিকে সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট বলেন, “এটি তাদের একটি বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা ছিল।”
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে এমন বীরোচিত লড়াইয়ের পর কেপ ভার্দের ম্যানেজার বুবিস্তা গর্বিত কণ্ঠে বলেন, “আমরা দেখিয়েছি দেশ ছোট হতে পারে, কিন্তু আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে পারি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুবার সমতায় ফেরা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
দলের ডিফেন্ডার রবার্তো ‘পিকো’ লোপেস বলেন, “এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো—মানচিত্রে কেপ ভার্দে কোথায়, তা এখন আর কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে না। আমরা নিজেদের বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরেছি।”

পুরো টুর্নামেন্টে কেপ ভার্দের অন্যতম বড় নায়ক ছিলেন তাদের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha)। পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেস-এর সাথে চুক্তি শেষ হওয়ায় বর্তমানে তিনি কোনো ক্লাবেই খেলছেন না। অথচ এই বিশ্বকাপে ১৮টি দুর্দান্ত সেভ করে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকদের তালিকায় তিন নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এক ম্যাচেই ৮টি সেভ করেন তিনি। তার এই শান্ত ও পেশাদার পারফরম্যান্স দেখে গ্যারি নেভিল মন্তব্য করেছেন, এই বিশ্বকাপের পর ভোজিনহা খুব দ্রুতই কোনো ভালো ক্লাব পেয়ে যাবেন।
৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপ নিয়ে টুর্নামেন্টের আগে যারা সমালোচনা করেছিলেন, কেপ ভার্দের এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স তাদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কেপ ভার্দের এই গল্পটিই ফুটবল বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য।
সূত্র: বিবিসি
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মিসর