ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবিতে নিজ দেশেই বিক্ষোভ

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই তীব্র চাপে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টজুড়ে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে এবার তার নিজের দেশ সুইজারল্যান্ডেই বিক্ষোভে নেমেছেন ফুটবল সমর্থকেরা। শুধু ফিফার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদই নয়, ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে বিক্ষোভে।

বিশ্বকাপ চলাকালীন শুরু হওয়া এই আন্দোলন দিন যত গড়িয়েছে, ততই বিস্তৃত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বারাস দেল মুন্দো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা খেলাধুলার অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ, ফিফার ভেতরের দুর্নীতি, বিতর্কিত রেফারিং, ম্যাচসূচি নির্ধারণ এবং ফুটবলে করপোরেট ব্যবসায়িক মডেল চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যানার হাতে মিছিল করছেন শত শত বিক্ষোভকারী। ‘আধুনিক ফিফার বিরুদ্ধে’, ‘ফিফার দুর্নীতি বন্ধ করো’, ‘ইনফান্তিনোকে হটাও’ এবং ‘ফুটবল সমর্থকদের ফিরিয়ে দাও’, এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিক্ষোভ।

ফিফাকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের মুখে পদ ছাড়তে হয়েছিল তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারকে। এরপর দায়িত্ব নেন ইনফান্তিনো। তবে তার সময়েও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়েনি।

এবারের বিশ্বকাপে বিতর্কের শুরু হয় বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ তুলে দেওয়ার পর। এরপর মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে রেফারিং ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই বেশি আলোচনায় উঠে আসে।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে একাধিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দেয়। প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির একটি ট্যাকলের ঘটনায় লাল কার্ড না দেখানোয় আলজেরিয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়। তাদের দাবি ছিল, একই ধরনের ঘটনায় অন্য দলগুলোর খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মেসির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হয়েছে।

শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, বড় দলগুলোর পক্ষেও ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের এজরি কোনসার বক্সের ভেতরের ট্যাকলে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়।

তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের ঘটনা। ইনফান্তিনো নিজেই স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফোন পাওয়ার পর ফিফা বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে খেলতে পারেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার দাবি করা ফিফার জন্য এই ঘটনা বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দেয়।

নকআউট পর্বের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রেফারিং নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সমর্থকদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়তে থাকে। সেই ক্ষোভ এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে নেমেছে। আর বিক্ষোভটি ইনফান্তিনোর নিজ দেশ সুইজারল্যান্ডে হওয়ায় বিষয়টি বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

AS
আরও পড়ুন