জুলাই মানেই বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পাশাপাশি একটি অদ্ভুত পরিসংখ্যানও বারবার আলোচনায় উঠে আসে, জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ফাইনাল যেন কখনোই হাসেনি আলবিসেলেস্তেদের দিকে। তিনবার জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেও শিরোপার স্বাদ পায়নি তারা। ফলে স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে সেই পুরনো পরিসংখ্যান আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কাতারের প্রচণ্ড গরমের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল নভেম্বর-ডিসেম্বরে। সেই আসরে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। এর আগে ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে তাদের দুটি শিরোপাই এসেছিল জুন মাসে। কিন্তু জুলাইয়ের ফাইনালগুলো যেন বরাবরই হয়ে উঠেছে হতাশার প্রতীক।

প্রথম বিশ্বকাপের ইতিহাসেই রয়েছে এমন একটি অধ্যায়। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে আয়োজিত বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩০ জুলাই। সেই ম্যাচে স্বাগতিক উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই ছিল জুলাইয়ে তাদের প্রথম ফাইনাল হার।

ছয় দশক পর আবারও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৯৯০ সালে ইতালি বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয় তাদের।

এরপর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও একই ভাগ্য বরণ করতে হয় লিওনেল মেসিদের। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে উঠলেও ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আবারও জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।

তিনটি জুলাই ফাইনাল, তিনটি পরাজয়, এই পরিসংখ্যান তাই অনেকের কাছে ‘জুলাই অভিশাপ’ হিসেবেই পরিচিত। যদিও ফুটবলে ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সব সময় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় শুরু হবে শিরোপার মহারণ। প্রশ্ন একটাই, আর্জেন্টিনা কি জুলাইয়ের সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে, নাকি পুরনো পরিসংখ্যানই আবারও সত্যি হয়ে উঠবে?

সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব। 

AS
আরও পড়ুন