সাফ চ্যাম্পিয়ন

হ্যাটট্রিক শিরোপা সাধ অধরাই রয়ে গেলো ঋতুপর্ণাদের

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সামনে ছিল ইতিহাস গড়ার সুযোগ—টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে রক্ষণের দুর্বলতা আর আক্রমণে ধারহীনতার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। ভারতের কাছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হলো লাল-সবুজের মেয়েদের।

পন্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দুই সেরা দলের লড়াই। প্রথমার্ধে সমানে সমান লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করে তহুরা খাতুন, যা পরে বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথমার্ধে ভারতের হয়ে গোল করেন পেয়ারি জাজা। তবে যোগ করা সময়ে তহুরার পাস থেকে ঋতুপর্ণা চাকমা সমতায় ফেরান বাংলাদেশকে। বিরতির পরপরই সানফিদার হেডে আবারও পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজরা। এরপর মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠলেও গোলের দেখা মেলেনি। বরং ৮২ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের মারাত্মক ভুলে ভারতের বদলি খেলোয়াড় লিন্ডা কোমে গোল করে ব্যবধান বাড়ান। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।

বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার এদিন শুরুর একাদশে পরিবর্তন আনলেও তা কাজে আসেনি। অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে ফিরিয়ে আনা হলেও দুজনেই ব্যর্থ হন। তহুরার দুটি স্পষ্ট ভুল চোখে পড়ার মতো ছিল। অন্যদিকে রক্ষণভাগে কোহাতি ও আফঈদার অনমনোযোগী খেলায় ভারতের আক্রমণ সহজ হয়ে যায়।

ভারতীয় গোলকিপার পান্থই চানু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি প্রথমার্ধে কিছু ভালো সেভ করলেও ভুল অবস্থান ও বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হওয়ায় চাপ বাড়ে।

এই জয়ে ভারত ২০১৯ সালের পর আবারও সাফ শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো। আর বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গেল রক্ষণের ভুলে।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এই হার বড় ধাক্কা হলেও তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো জাগিয়েছে। ঋতুপর্ণা চাকমার ধারাবাহিকতা এবং ছোট শামসুন্নাহারের প্রচেষ্টা প্রমাণ করেছে, সঠিক প্রস্তুতি ও মনোযোগ থাকলে তারা আবারও শিরোপার লড়াইয়ে ফিরতে সক্ষম।

এখন প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের পরবর্তী পরিকল্পনা কী হবে? তারা কি নতুন করে রক্ষণভাগ সাজাবে, নাকি আক্রমণভাগে ধার বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে? একইসাথে ভারতের এই জয় তাদের দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

AHA
আরও পড়ুন