মানব বর্জ্য থেকে এক বিশেষ ধরনের কংক্রিট উদ্ভাবন করেছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। এমনকি এটি প্রচলিত কংক্রিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি শক্তিশালী হতে পারে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন রঘুভেশ তিওয়ারি ও তার দল।
গবেষণায় ভারতের ওয়ারাঙ্গালের একটি বর্জ্য পরিশোধনাগার থেকে সংগ্রহ করা পরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য ব্যবহার করা হয়। এই বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয়েছে বায়োচার। বায়োচার হলো কার্বনসমৃদ্ধ এক ধরনের উপাদান, যা খুব কম অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জৈব পদার্থকে উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে তৈরি করা হয়।
গবেষকেরা প্রথমে পরিশোধিত পয়োর্জ্যের কাদা বা স্যুয়ারেজ স্লাজ শুকিয়ে নেন। এরপর ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কম অক্সিজেনে সেটি উত্তপ্ত করা হয়। পরে উৎপাদিত বায়োচারকে সূক্ষ্ম গুঁড়ায় পরিণত করা হয়। এরপর প্রচলিত কংক্রিট তৈরির সময় সিমেন্টের ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশের পরিবর্তে এই বর্জ্যভিত্তিক বায়োচার ব্যবহার করা হয়। তৈরি করা নমুনাগুলোতে চাপ সহ্য করার ক্ষমতা, বাঁকজনিত শক্তি, পানি শোষণ, সংকোচন এবং ছিদ্রতার মতো বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট মাত্রায় বায়োচার ব্যবহারে কংক্রিটের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহার করা কংক্রিট ৯১ দিন কিউরিংয়ের পর প্রচলিত কংক্রিটের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি কমপ্রেসিভ শক্তি এবং ৩৬ শতাংশ বেশি ফ্লেক্সারাল শক্তি দেখিয়েছে। অন্যদিকে, ১০ শতাংশ বায়োচার ব্যবহারে ফ্লেক্সারাল শক্তি সর্বোচ্চ প্রায় ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কমপ্রেসিভ শক্তিও প্রায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, বায়োচারের ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত গঠন কংক্রিটের ভেতরে পানি শোষণ করে ধরে রাখতে পারে এবং ধীরে ধীরে সেই পানি ছেড়ে দিতে পারে। এতে কংক্রিট শক্ত হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক বিক্রিয়া বা হাইড্রেশন প্রক্রিয়া আরো কার্যকর হতে পারে। এ ছাড়া বায়োচারে থাকা সিলিকা কংক্রিটের ভেতরে এমন কিছু যৌগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা এর শক্তি ও স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
তবে গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে- বায়োচারের পরিমাণ বাড়ালেই কংক্রিটের শক্তি বাড়ে না। ১৫ শতাংশ সিমেন্টের পরিবর্তে বায়োচার ব্যবহার করা হলে কংক্রিটে তুলনামূলকভাবে বেশি ছিদ্র ও ফাটল তৈরি হয়। ফলে সামগ্রিক শক্তি কমে যায়। অর্থাৎ, কংক্রিটে বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপযুক্ত অনুপাত নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকেরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নির্মাণ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে বাস্তব ভবন নির্মাণে ব্যবহারের আগে আরো ব্যাপক পরীক্ষা প্রয়োজন। বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, লবণাক্ত পরিবেশ এবং হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় এই কংক্রিট কতটা টেকসই থাকে, তা পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি পয়োবর্জ্য থেকে তৈরি উপাদানে থাকা ভারী ধাতু সময়ের সঙ্গে কংক্রিট থেকে বেরিয়ে আসে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করতে হবে।
গবেষকদের মতে, এসব বিষয় সন্তোষজনকভাবে সমাধান করা গেলে মানব বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োচার ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নির্মাণসামগ্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আবারও ডুবল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, পারাপারে নিষেধাজ্ঞা
শীর্ষ এলএনজি উৎপাদক কাতারকেও গ্যাস কিনতে হচ্ছে
হুথি ইস্যু নিয়ে আরাঘচি-আসিম মুনির ফোনালাপ
আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান