কক্সবাজার সৈকতে ১২ ‘বর্জ্যমানব’

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

কারও শরীর ঢাকা প্লাস্টিকের বোতল, মগ ও ছোট বালতিতে। কারও গায়ে প্লাস্টিকের থালা। কেউ আবার শরীরে জড়িয়েছেন নানা ধরনের ইলেকট্রনিক বর্জ্য। এমন ১২ জন ‘বর্জ্যমানব’ দৌড়ে বেড়াচ্ছেন সমুদ্রসৈকতে। তাদের ঘিরে ভিড় করেছেন নানা বয়সী পর্যটক। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল আটটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায় এমন দৃশ্য। সাগরদূষণ নিয়ে পর্যটকদের সচেতন করতে বর্জ্য দিয়ে নিজেদের সাজিয়েছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা। এসব বর্জ্য সাগর থেকে কুড়িয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্লাস্টিক ও পরিবেশদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বুধবার সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে অংশ নেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। শোভাযাত্রায় ছিলেন ১২ জন ‘বর্জ্যমানব’। তারা সৈকতে দৌড়ে পর্যটকদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘সৈকত আমাদের অমূল্য সম্পদ। সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করুন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হোন।’

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, গত ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। এখনো লাখো পর্যটক রয়েছেন। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বর্জ্যে সাগর দূষিত হচ্ছে। এ কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শোভাযাত্রায় থাকা ১২ জন ‘বর্জ্যমানব’ পর্যটকদের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, সৈকতে বেড়াতে আসা অনেকেই বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান। এর মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য বেশি। এসব বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে দূষণ সৃষ্টি করছে। বালুচরে ময়লা ফেলার জন্য অসংখ্য ডাস্টবিন রাখা হলেও অনেকেই সেগুলো ব্যবহার করেন না। প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা বোঝাতে ১২ জন নারী-পুরুষ ‘বর্জ্যমানব’ সেজেছেন।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বর্জ্য দিয়ে নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এটি নির্মাণ করে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা ভাস্কর্যটি দেখতে আসছেন।

জেএম
আরও পড়ুন