শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল আসক্তি থেকে মুক্তি দিতে এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (সোশ্যাল মিডিয়া) ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে’ একটি বিল পাস হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দীর্ঘ অধিবেশন শেষে বিলটি ১৩০-২১ ভোটে অনুমোদিত হয়। বিলটির পক্ষে বিপুল সমর্থন পাওয়ায় একে ডিজিটাল যুগের এক বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দেশটির উচ্চকক্ষ বা সিনেটে পাঠানো হবে। সিনেটে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, ‘আমাদের শিশুদের মন কোনো বিক্রির বস্তু নয় এবং এটি কোনো মার্কিন প্ল্যাটফর্ম বা চীনা নেটওয়ার্কের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না। শিশুদের স্বপ্ন কোনো অ্যালগরিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত নয়।’
ফরাসি সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি সুস্থ ও দুশ্চিন্তামুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা স্ক্রিনের আসক্তি কাটিয়ে প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধে গড়ে উঠবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই এই আইন কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই আইন কার্যকর হলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো নির্ধারিত বয়সের নিচের শিশুদের প্রবেশাধিকার রুখতে কড়া আইনি বিধি-নিষেধের মুখে পড়বে। নিয়ম অমান্য করলে টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধানও রাখা হতে পারে এই বিলে।
ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ ইউরোপের অন্যান্য দেশসহ সারা বিশ্বের ডিজিটাল আইন ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: টিআরটি
নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা পরীক্ষার পরিকল্পনা মেটার
সিম কার্ড ছাড়াই ফোনে কল, জেনে নিন সহজ ৩টি উপায়
