ঢাকা
মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার

এআই বলে দেবে পোষা প্রাণীর ‘মনের কথা’

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম

যদি পোষা বিড়ালটি রেগে যায়, কুকুরটি কান্না শুরু করে কিংবা খরগোশ অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে, তাহলে আপনি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন। ঠিক বুঝতে পারছেন না, আসলে প্রিয় প্রাণীটি কী করতে চাইছে বা আপনি কী করবেন। এক ধরনের অস্বস্তিতে পড়ে যান আপনি। কিন্তু যারা জানতে পারেন, তাদের অনুগত সঙ্গীর মনে কী চলছে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে। এটি বলে দেবে আপনার প্রিয় প্রাণীর অঙ্গভঙ্গির ভাষা আসলে কী; আপনার কী করণীয়। এ বিষয়ে গবেষণায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ব্যয়বহুল বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে এই প্রাণীদের আচরণগত ভাষা বিশ্লেষণ করা হবে। বিস্তৃত পরিসরের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ৪০ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর কাজ স্নায়ুবিজ্ঞান, দর্শন, পশু চিকিৎসাবিজ্ঞান, আইন, বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান, তুলনামূলক মনোবিজ্ঞান, আচরণগত বিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি জেরেমি কলার সেন্টার ফর অ্যানিম্যাল সেন্টিয়েন্স নামে পরিচিত হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এটি অ-মানব প্রাণীদের ওপর গবেষণা শুরু করবে। কেবল পোষা প্রাণীই নয়, গবেষণার অন্তর্ভুক্ত থাকবে পোকামাকড়, কাঁকড়া ও কাটলফিশের মতো বিবর্তনের মধ্যে থাকা প্রাণীরাও।

প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে প্রাধান্য পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, যা পোষা প্রাণীর ‘মনের কথা’ খুঁজে বের করবে। প্রাণীর আচরণে কোনো ভুল বা ঝুঁকি থাকলে সেটি ঠেকানোর পথও বাতলে দেবে। গবেষণা কেন্দ্রটির পরিচালক অধ্যাপক জোনাথন বার্চ বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকে, পোষা প্রাণীরা যেন মানবিক বৈশিষ্ট্য বা মানুষের মতো আচরণ করুক। এআইর মাধ্যমে পোষা প্রাণী কীভাবে আপনার সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হবে, সে বিষয়টি একেবারে নতুন স্তরে নেওয়া হবে।’

নতুন কেন্দ্রটির অন্যতম ট্রাস্টি অধ্যাপক ক্রিস্টিন অ্যান্ড্রুজ জানান, কেন্দ্রটি বিভিন্ন প্রাণীর আচরণই বিশ্লেষণ করবে না; এটি চিকিৎসাক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে– মানুষের চেতনা কী। আমরা এখনও জানি না, কী মানুষকে সচেতন করে তোলে অথবা কেন কেউ সচেতন হওয়া শুরু করে বা বন্ধ করে দেয়। বিজ্ঞান বিভিন্ন জীবের আচরণ অধ্যয়ন করে জিনোমিক্স ও চিকিৎসাক্ষেত্রে দুর্দান্ত অগ্রগতি অর্জন করেছে।0

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

MMS