তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে নীলফামারী জেলা জুড়ে আলুতে মড়ক দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা। লেইট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত গাছের পাতায় কালচে দাগ ও ফোসকার মতো তৈরি হচ্ছে। ধীরে ধীরে পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আলু চাষিরা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গেলে আলু চাষিরা জানান টানা কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে আলুতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে লেইট ব্লাইট বা আলুর মড়ক রোগ।
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কে আলুর মড়ক রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ধরা হয়। বিশেষ করে নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আবহাওয়ায় এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রমতে নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলায় গত বছর ২৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়। এবার চলতি মৌসুমে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়। সেখানে আবাদ হয় লক্ষমাত্রার চেয়ে ৪০০ হেক্টর বেশি।
সূত্র মতে, এরমধ্যে আগাম আলু বাজারে উঠেছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির। ওই সময় আলুতে খোলপঁচা রোগ দেখা যায়নি। তবে এখন জমিতে রয়েছে মৌসুমী আলু আবাদ। ওই আলুতেই এই রোগ আক্রমণ করেছে।
জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের আলু চাষি রমজান আলী জানান, তার দেড় বিঘা জমির আলু লেইট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত। তিন বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছে একই উপজেলার দুরাকুটি গ্রামের আব্দুল মতিন।
তিনি জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশায় আলুর খেতে মড়ক রোগ দেখা দিয়েছে। এতে পচে যাচ্ছে আলুর পাতা ও কান্ড। ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও মিলছে না তেমন ফল। আলু গাছ মরে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী এলাকার জমিতে এই রোগ আরও বেশী দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্য, আলুর চারা যখন সতেজ হয়ে সবুজ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের প্রভাবে লেইট ব্লাইট বা পাতামড়ক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান বলেন, ‘আলুর মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা কাজ করছে এবং খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খুবি শিক্ষককে অব্যাহতি
