পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ফের অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। চাল, ডাল, তেলসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম আগে থেকেই ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলা ও চিনির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শীত মৌসুম শেষ হওয়ার অযুহাতে সরবরাহ কমার কথা বলে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ সবজিও।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোলা এখন ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। চিনির বাজারও লাগামহীন; দুই সপ্তাহ আগে ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ হওয়া চিনির দাম বর্তমানে ১১০ টাকায় ঠেকেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক ছোলার চাহিদার চেয়েও বেশি আমদানির মজুদ রয়েছে। অন্যদিকে, রমজানে চিনির ৩ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে গত তিন মাসেই আমদানি হয়েছে ৫ লাখ টন। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কেবল বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চালের বাজারেও অস্বস্তি কাটছে না। নতুন আমন চাল বাজারে এলেও পুরোনো চালের দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। রশিদ, মঞ্জুর ও সাগরের মতো ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল এখন ৮৩-৮৬ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭২-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সয়াবিন তেলের ৫ লিটারের বোতল এক মাসের ব্যবধানে ৩০ টাকা বেড়ে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারেও নেই কোনো সুখবর। শীতের সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করায় পেঁপে, শালগম, বেগুন, গাজর ও শসার দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা এবং টমেটো ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, তদারকির অভাবে রমজান আসার আগেই পরিকল্পিতভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তোলা হচ্ছে।
শীত শেষ না হতেই উত্তপ্ত রাজধানীর কাঁচাবাজার
রাত না পোহাতেই আবারও বাড়লো সোনার দাম
