জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলারে ওঠার শঙ্কা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। যুদ্ধের শুরুতে বিশ্লেষকরা তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ানোর পূর্বাভাস দিলেও সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই এখন ব্যারেল প্রতি দাম ১৫০ বা এমনকি ২০০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে এই জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওসিবিসি (OCBC) গ্রুপ রিসার্চের মতে, জরুরি মজুত থেকে তেল ছেড়েও বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

ভান্ডা ইনসাইটস-এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ওমান এবং দুবাইয়ের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বেঞ্চমার্ক ক্রুড অয়েলের দাম ইতোমধ্যে ১৫০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এখন ব্রেন্ট ক্রুড ২০০ ডলারে পৌঁছানো আর আকাশকুসুম কল্পনা নয়।’ আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা উড ম্যাকেঞ্জিও মনে করছে, ২০২৬ সালের মধ্যে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানো ‘সম্ভাবনার বাইরে নয়’। ইরানও গত সপ্তাহে বিশ্ববাসীকে তেলের দাম ২০০ ডলার হওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, তেলের দাম প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ০.৪ শতাংশ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০.১৫ শতাংশ হ্রাস পাবে। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১৪৭.৫০ ডলারে উঠেছিল। বর্তমান বাজার দর ইতোমধ্যে ১১২ ডলার ছাড়িয়েছে। তেলের দাম ২০০ ডলার হলে তা কেবল জ্বালানি নয়, বরং সার, প্লাস্টিকসহ সব ধরণের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরণের ‘হ্যান্ডব্রেক’ হিসেবে কাজ করবে।

তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, দাম খুব বেশি বেড়ে গেলে মানুষ ব্যবহার কমিয়ে দেবে, যাকে বলা হয় ‘ডিমান্ড ডেস্ট্রাকশন’। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো উৎপাদন বৃদ্ধি করলে তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী কত দ্রুত স্বাভাবিক যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভাগ্য।

NB/
আরও পড়ুন