৫৮ কূপ খনন ও ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদের পরিকল্পনা সরকারের

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে আরও ৫৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার (সংস্কার) করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একইসঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেলের মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানান। সংসদ সদস্য দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন ধরেন।

গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর
মন্ত্রী জানান, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৫৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। চলমান সাইসমিক সার্ভে থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন নতুন লোকেশন নির্ধারণ করে এই খনন কাজ চালানো হবে। একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে ১,৫০০ হর্স পাওয়ারের নতুন রিগ সংগ্রহ, টেস্টিং ও কমিশনিং করা হবে।

সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রের ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রের ১১টিসহ মোট ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে 'Bangladesh Offshore Bidding Round 2026' আহ্বান সংক্রান্ত বিড নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক সার্ভে এবং নতুন গ্যাসকূপ খনন সম্ভব হবে। এছাড়া স্থলভাগের কিছু এলাকার জন্যও অনশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

এলএনজি ও পাইপলাইন অবকাঠামো

জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মহেশখালীতে একটি ল্যান্ড বেজড (স্থলভিত্তিক) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। এছাড়া সিস্টেম লস কমিয়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহের নতুন রুট সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পাইপলাইন স্থাপন, বরিশাল-আমিনবাজার-খুলনা পাইপলাইন, ফেনী-বেগমগঞ্জ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন এবং মহেশখালী-বাখরাবাদ তৃতীয় সমান্তরাল গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মজুদ ও আধুনিকায়ন

জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বিভিন্ন আধুনিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম), ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন (আইবিএফপিএল), চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহন পাইপলাইন (সিডিপিএল) এবং পিতলগঞ্জ থেকে কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো পর্যন্ত জেট-এ-১ পাইপলাইন প্রকল্প।

মন্ত্রী জানান, গত ২৫ বছরে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ক্ষমতা ৬,৯৩,৯৯০ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ১৫,৭২,৫০৩ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে এই মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৬-৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৯,৩৬,৬৯০ মেট্রিক টন মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি ও আমদানি বহুমুখীকরণ

দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বছরে ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে আরও ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'মডার্নাইজেশন এন্ড এক্সপানশন অব ইআরএল' শীর্ষক প্রকল্প গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে এর ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

জ্বালানি তেলের আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরবরাহ নিশ্চিত করতে জি-টু-জি চুক্তি, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তি এবং বিশেষ প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসডিজি-৭ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার এসব টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি সংসদকে জানান।

AHA
আরও পড়ুন