২০৩০ সালের মধ্যে 'ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক' গড়ার উদ্যোগ সরকারের

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যবহার বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ব্যবহৃত ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আর্থিক সহায়তায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ‘বাংলাদেশ এনাবলিং ইলেকট্রিক ভেহিকলস অ্যাডপশন ইন দ্য ফ্রেমওয়ার্ক অব সাসটেইনেবল এনার্জি-বেইজড ট্রান্সপোর্টেশন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রকল্পের আওতায় বৈদ্যুতিক বাস, মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনের জন্য চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে এ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ইউএনডিপি অনুদান হিসেবে দেবে ২৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির অনুমোদনের পর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) কাছে পাঠানো হবে।

খসড়া প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ডিপোগুলোতে ৩০০ থেকে ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সুপারফাস্ট চার্জিং সুবিধাযুক্ত চারটি বৈদ্যুতিক বাস চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রতিটি স্টেশনে একসঙ্গে ২০টি বাস চার্জ দেওয়া যাবে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিআরটিসির জোয়ার সাহারা, মিরপুর, গাবতলী, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী ডিপো বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া মানিকগঞ্জের উথলী, কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এবং চট্টগ্রামের বিআরটিসি ডিপোতে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনের জন্য তিনটি সৌরবিদ্যুৎ-সমন্বিত (সোলার-হাইব্রিড) চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব স্টেশন জাতীয় গ্রিড ও সৌরবিদ্যুতের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। প্রতিটি স্টেশনের সক্ষমতা হবে ৮০ কিলোওয়াট, যার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আসবে সৌরশক্তি থেকে।

প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরে বিআরটিসির একটি ডিপোতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহৃত ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য একটি ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও ডিসপোজাল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।

পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক গণপরিবহন সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ১০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনা এবং ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে বিআরটিসি। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে সংস্থাটির জন্য ৫০ আসনের ১২টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক বাস কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট’-এর আওতায় আরও ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে বিআরটিসি। খসড়া ডিপিপি অনুযায়ী, এ প্রকল্পে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিশ্বব্যাংক।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন ও আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থে যেসব জিপ ও গাড়ি কেনা হবে, সেগুলো বাধ্যতামূলকভাবে বৈদ্যুতিক হতে হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ বৈদ্যুতিক দুই ও তিন চাকার যানবাহন রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক হাজার প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি চলাচল করছে, যেগুলোর অধিকাংশই বাসাবাড়ি ও গ্যারেজে চার্জ দেওয়া হয়।

বর্তমানে দেশে আংশিক সৌরবিদ্যুৎচালিত ১৪টি বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা ২৪২ কিলোওয়াট। তবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এসব চার্জিং সুবিধা যথেষ্ট নয় বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দেশের বিভিন্ন স্থানে আটটি সৌরবিদ্যুৎচালিত চার্জিং স্টেশন স্থাপন করেছে। প্রতিটি স্টেশন ৩০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২০টি যানবাহন চার্জ দিতে সক্ষম।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১ হাজার ২০০টি বাণিজ্যিক চার্জিং স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (স্রেডা)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩২টি বাণিজ্যিক চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেওয়া হলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে মাত্র নয়টি স্টেশন চালু রয়েছে।

জাতীয় বাজেটে ইভিবান্ধব নীতি গ্রহণের পর বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন ও চার্জিং অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেড়েছে। এ খাতে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, নাসির গ্রুপ, আকিজ মোটরস, রানার অটোমোবাইলস, প্রাণ-আরএফএল, ওয়ালটন গ্রুপ, টিএমএসএস, প্রগ্রেস মোটরস, সেনা হোটেল (র‌্যাডিসন ব্লু), কাজী এলপিজি, গুডলাক ফিলিং স্টেশন এবং ঈশা খাঁ গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

Attr/YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত