বিশ্ববাজারে ফের ১০০ ডলার ছাড়ালো জ্বালানি তেলের দাম

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম

মে মাসের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করায় হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে গত কয়েক দিন ধরেই তেলের দাম ঊর্ধমুখী। এছাড়া লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়াতে এই রুটটি ব্যবহার করে আসছিল।

তেলের পাশাপাশি গত এক মাসে গ্যাসের দামও বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের বেঞ্চমার্ক গ্যাসের দাম জুনের শেষে প্রতি থার্ম ৯৮ পেন্সে থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৫০ পেন্স ছুঁয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে তেলের দাম কিছুটা কমে এসেছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগের পর্যায়ে নেমেছিল দাম। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় এবং সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের শাসকগোষ্ঠী চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করার পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা সাধারণ ভোক্তার পকেটে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। সাধারণত তেলের দাম বাড়লে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ে। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে।

জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশে নেমেছিল (যা জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় সম্ভব হয়েছিল) এবং যুক্তরাষ্ট্রে তা ছিল ৩.৫ শতাংশ। তবে নতুন করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনায় এই স্বস্তি সাময়িক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন উপাত্ত অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকে যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৫ পেন্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৫৬ পাউন্ডে। ড্রাইভারদের সেবা সংস্থা আরএসি-এর তথ্যমতে, দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি লিটার ১.৭২ পাউন্ড। অন্যদিকে, মার্কিন মোটরচালক সংস্থা ট্রিপল এ-এর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম এক মাস আগের ৩.৯২ ডলার থেকে বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে।

বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘কুইল্টার শেভিওট’-এর পোর্টফোলিও ম্যানেজার জোনাথন রেমন্ড জানান, জ্বালানির উচ্চমূল্য সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের খরচ বাড়ায়, যা দিনশেষে খাদ্য পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রীর মূল্যে রূপ নেয়। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দাম চড়া থাকলে মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার চড়া রাখতে হতে পারে বা এমনকি আবার বাড়াতেও হতে পারে, যা বন্ধকগ্রহীতা ও ঋণগ্রহীতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। সূত্র: বিবিসি

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত