কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে বিনিয়োগকারীদের তুমুল আগ্রহ ও শেয়ার কেনার হিড়িকের ওপর ভর করে মার্কিন শেয়ার বাজার ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচক 'এস অ্যান্ড পি ৫০০' (S&P 500) আগের দিনের চেয়ে ০.৫৮ শতাংশ বেড়ে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের রেকর্ডকেও অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের প্রাধান্য থাকা 'নাসডাক কম্পোজিট' (Nasdaq Composite) সূচকটি ০.৪৫ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোই বাজারে সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে। মেটা (Meta) ব্যতীত 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' নামে পরিচিত বিশ্বখ্যাত শীর্ষ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির শেয়ারের দামই বেড়েছে।
শেয়ারের দাম ১.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই দৌড়ে শীর্ষস্থানে ছিল অ্যামাজন। এরপরই যথাক্রমে মাইক্রোসফট ও টেসলার শেয়ারের দাম বেড়েছে ০.৭৮ শতাংশ এবং ০.৫১ শতাংশ। এছাড়া অ্যাপল ও আলফাবেটের শেয়ারের দাম ০.২২ শতাংশ এবং এনভিডিয়ার শেয়ার ০.১৪ শতাংশ বেড়েছে।
তবে গত মাসে তাদের নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট 'মিউজ' (Muse) চালুর পর থেকে ২০ শতাংশের বেশি শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়া মেটার শেয়ার এদিন ০.৪১ শতাংশ কমেছে। প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ারের দাম ৫.৮১ শতাংশ এবং সিসকোর শেয়ারের দাম ৪.৫৪ শতাংশ বেড়েছে।
এআই কেন্দ্রিক উত্থান
জর্জিয়ার আটলান্টাভিত্তিক ট্রুইস্ট অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা কিথ লার্নার এই সূচক বৃদ্ধিকে "প্রযুক্তি ও এআই-এর অভূতপূর্ব জোয়ার" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "প্রতিটি চাঙ্গা বাজারের (Bull Market) একটি মূল চালিকাশক্তি থাকে, আর বর্তমান বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রযুক্তি ও এআই। গত মাসে এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচকের ১১টি খাতের মধ্যে কেবল প্রযুক্তি ও যোগাযোগ সেবা—এই দুটি খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বাকি ৯টি খাতেরই পতন হয়েছে।"
ওয়াল স্ট্রিটের বৃহৎ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এআই খাতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ জারি রাখায় মার্কিন অর্থনীতির নানাবিধ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শেয়ার বাজার বেশ ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এবং ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ড বিক্রির ঢল নামা সত্ত্বেও, বাজারটি টানা চতুর্থ বছরের মতো দ্বিমাত্রিক বা ডাবল-ডিজিট রিটার্ন অর্জনের পথে রয়েছে।
২০২৬ সালে এ পর্যন্ত এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ১৪ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১৮.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মরনিংস্টার অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র ইকুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট লকলাান হলোওয়ে বলেন, "বিনিয়োগকারীরা এআই-এর সম্ভাবনার ওপর অত্যন্ত আশাবাদী। ডেটা সেন্টারে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে তা ভালো মুনাফা এনে দেবে বলেই তারা বাজি ধরছেন। এই বিশ্বাসের কারণেই সুদের হার বৃদ্ধি, চড়া তেলের দাম এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদের হার ৫ শতাংশের উপরে থাকার পরও বাজার চাঙ্গা রয়েছে।"
তবে হলোওয়ে সতর্ক করে আরও বলেন, "আমরাও এআই নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু এর ফলাফলের ক্ষেত্রটি অত্যন্ত ব্যাপক এবং বাজারের পুরো দৌড়টি অল্প কয়েকটি নির্দিষ্ট কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই মার্কিন তথা বিশ্ব শেয়ার বাজারের ভবিষ্যৎ মূলত এআই খাতের ধারাবাহিক সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে।"
কিথ লার্নার মনে করেন, কর্পোরেট মুনাফা বৃদ্ধি এবং ঐতিহাসিক ধারার কারণে বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। যদিও পথটি সবসময় মসৃণ নাও হতে পারে, তবে ১৯৫০ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছরগুলোর শেষ প্রান্তিকে (Q4) গড়ে ৭ শতাংশ সূচক বেড়েছে এবং ৮৪ শতাংশ সময় বাজার ইতিবাচক ছিল। তবে সুদের হার বৃদ্ধি এই ঊর্ধ্বমুখী যাত্রায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এশীয় বাজার ও বিশ্ব তেলের বাজারে প্রভাব
মার্কিন বাজারে উত্থান সত্ত্বেও বুধবার এশিয়ার শেয়ার বাজারে পতন দেখা গেছে। সকালের লেনদেনে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ের প্রধান সূচকগুলোর পতন ঘটে। গ্রিনিচ মান সময় ০২:৩০ টা পর্যন্ত টোকিওর নিক্কেই ২২৫, সিউলের কোসপি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক যথাক্রমে ০.৭৯ শতাংশ, ১.৩৬ শতাংশ এবং ০.৭১ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের পর থেকে উর্ধ্বমুখী থাকা জ্বালানি তেলের দাম বুধবার আরও বেড়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সমর্থিত বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যকার লড়াই তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেল প্রতি ১০১.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ০.৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে তুমুল সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
আলোচনা নয়, সুদান পুনর্দখলের ঘোষণা সেনাপ্রধানের
ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা